Somoy TV
আজ শনিবার (৬ জুন) নিজেদের প্রথম প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে জেন-জি নেতৃত্বাধীন আন্দোলন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশ অংশ নিয়েছেন হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রী। ভারতের সাম্প্রতিক বড় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলোয় প্রশ্নফাঁসের মতো নানা অনিয়মের প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।রঙিন কাগজের তেলাপোকার মুখোশ ও পুস্তিকা হাতে সমাবেশে অংশ নেয়া তরুণ প্রতিবাদকারীরা প্রশ্নপত্র ফাঁস ও প্রযুক্তিগত ত্রুটিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেন। প্রতিবাদস্থলে উপস্থিত চিকিৎসাবিজ্ঞানে ভর্তিচ্ছু উত্কর্ষ রাজ (১৬) এএফপিকে বলেন, ‘আমরা সরকারের কাছে জবাবদিহিতা চাই। এই দেশে কীভাবে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়? এটা কীভাবে ঠিক হতে পারে?’ এই প্রতিবাদ সমাবেশের নেতৃত্ব দেন ৩০ বছর বয়সি অভিজিৎ দিপকে যিনি ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা। বোস্টন ইউনিভার্সিটির স্নাতক এই তরুণ আজ শনিবার সকালেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে দিল্লিতে আসেন। আরও পড়ুন: দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিজেপির নামের সঙ্গে মিলিয়ে তার এই প্যারোডি দল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) গত মাসে চালু হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাখ লাখ অনুসারী পেয়েছে। সাবেক আপ (আম আদমি পার্টি) নেতা ও রাজনৈতিক যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অভিজিৎ দিপকে সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, ‘দেশের যুবসমাজ আর কাউকে ভয় পাবে না, তারা লড়াই করবে। তেলাপোকারা কখনও কারও ভয় পায় না, তারা মরেও না।’ এ সময় তার সামনে থাকা তরুণ বিক্ষোভকারীরা সমস্বরে স্লোগান দিতে থাকেন। আন্দোলনের পটভূমি ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত সম্প্রতি আদালতের এক শুনানিতে সরকারের সমালোচনাকারী যুবকদের ‘তেলাপোকা’ ও ‘পরজীবী’ বলে মন্তব্য করায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে বিচারপতি বলেন, তার মন্তব্য প্রসঙ্গের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই ঘটনার পরই ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র উত্থান ঘটে। দলটির স্লোগান — ‘যুবকদের জন্য, যুবকদের দ্বারা, যুবকদের রাজনৈতিক মঞ্চ’। দলের নেতারা চলতি সপ্তাহে নয়াদিল্লিতে প্রথমবারের মতো সংবাদ সম্মেলনে করেন। ওই সংবাদ সম্মেলন থেকেই আজ বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয়া হয়। যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করে। আজ সমাবেশে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অনিয়ম নিয়ে নিজেদের মতামত প্রকাশ করেন। তারা বলেন, যুবসমাজের ক্ষোভ যথার্থ। ২০ বছর বয়সি সার্থক (এক নামে পরিচিত) বলেন, ‘ভারতের মতো দেশে এত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগুলোর আরও ভালো ব্যবস্থাপনা প্রাপ্য।’ আরও পড়ুন: তেলাপোকার ঝাঁক কি এবার ব্যালট বাক্সে? ভারতে আলোচনায় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ গত মাসে জাতীয় মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষা (নিট) বাতিল করা হয় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায়। এই কেলেঙ্কারির পর কয়েকজন কিশোর-কিশোরীর আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটেছে বলে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। এর আগে প্রায় ২০ লাখ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীর অনলাইন মূল্যায়ন ব্যবস্থাতেও বড় ধরনের কেলেঙ্কারি হয়। ৫২ বছর বয়সি সপন জ্ঞান, যিনি ছেলেদের সঙ্গে প্রতিবাদে এসেছিলেন, বলেন, ‘যুবকদের এই পরীক্ষাগুলো দিতে হয়। এমন ব্যবস্থা যেন থাকে না যেখানে পরীক্ষার কোনো বিশ্বাসযোগ্যতাই অবশিষ্ট নেই।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয়তা সিজেপির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ২ কোটি ২০ লাখের বেশি ফলোয়ার রয়েছে — যা বিজেপির (৯ মিলিয়ন) এবং প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের (১৩ মিলিয়ন) চেয়ে অনেক বেশি। দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশটিতে লাখ লাখ যুবক স্থিতিশীল ও ভালো বেতনের চাকরি খুঁজে পাচ্ছে না, যা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে অসন্তোষ বাড়াচ্ছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) অনুসারে, ১৫-২৪ বছর বয়সিদের মধ্যে বেকারত্বের হার প্রায় ১৬ শতাংশ। সম্প্রতি প্রতিবেশী বাংলাদেশ ও নেপালে যুবকদের নেতৃত্বে দুর্নীতি ও রাজনৈতিক উদাসীনতার বিরুদ্ধে আন্দোলন সরকার পতন ঘটিয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় এবার ভারতে জেন-জি আন্দোলন দানা বাঁধছে। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) গত ১৬ মে অর্থাৎ মাত্র ২১ দিন আগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যা শুরু হয়েছিল একটি ডিজিটাল আন্দোলন হিসেবে, তা দ্রুত বড় আকার ধারণ করেছে। শিক্ষা ব্যবস্থা ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিয়ে ছাত্রদের ক্ষোভ, হতাশা, সন্দেহবাদ এবং অবিরাম মেরুকরণের মধ্যে এটি এখন জনগণের প্রশ্নগুলো পুনরুদ্ধারের দাবিতে পরিণত হয়েছে।
Go to News Site