Collector
চা বাগানে পাতা উত্তোলন ও উৎপাদন শুরু, ভালো ফলনের আশা | Collector
চা বাগানে পাতা উত্তোলন ও উৎপাদন শুরু, ভালো ফলনের আশা
Somoy TV

চা বাগানে পাতা উত্তোলন ও উৎপাদন শুরু, ভালো ফলনের আশা

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি বছর চায়ের বাম্পার ফলনের উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি এবার চায়ের গুণগত মানও অন্যান্য বছরের তুলনায় ভালো হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এরই মধ্যে জেলার ছোট-বড় ৯৩টি চা বাগানে পুরোদমে পাতা উত্তোলন ও উৎপাদন শুরু হয়েছে।মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, পাহাড়ের ঢালে সারি সারি চা-বাগান। বাগানজুড়ে সবুজ কচি চা-পাতার সমাহার। চলতি বছর চা উৎপাদন মৌসুমের শুরুতেই আগাম বৃষ্টিপাত এই জেলার চা শিল্পে আশার আলো জাগিয়েছে। চা উৎপাদনের ভরা মৌসুমে এসে দুহাত ভরে ‘দুটি পাতা একটি কুঁড়ি’ তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন বাগানের নারী শ্রমিকরা। গত বছরের এই সময়ে জেলার সবকটি বাগানে এমন সবুজের সজীবতা ছিল না। পর্যাপ্ত চা-পাতার অভাবে তখন নারী শ্রমিকদের দৈনিক লক্ষ্যমাত্রা (নিরিখ) পূরণ করা কঠিন ছিল। তবে এবার ভরা মৌসুমেও প্রয়োজনীয় বৃষ্টিপাত ও সহনীয় তাপমাত্রায় চায়ে ব্যাপক সফলতা এসেছে। খুশি মনে শ্রমিকরা ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পাতা উত্তোলনের কাজ করছেন। সেই সাথে কারখানাগুলোতেও পুরোদমে চায়ের উৎপাদন শুরু হয়েছে। ভাড়াউড়া চা বাগানের নারী শ্রমিক গীতাসহ একাধিক শ্রমিকের সাথে কথা বলে জানা যায়, এ বছর চা গাছে পর্যাপ্ত কচি পাতা রয়েছে। তারা জানান, প্রতিদিন একেকজন শ্রমিক ২৫ থেকে শুরু করে ৪০ কেজি পর্যন্ত পাতা উত্তোলন করতে পারছেন। আরও পড়ুন: মৌলভীবাজারে পাহাড়ের টিলায় টিলায় ঝুলছে লিচু, ব্যস্ত সময় যাচ্ছে চাষিদের মৌলভীবাজারের একটি চা কারখানায় পুরোদমে চলছে চা পাতা প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজ। ছবি: সময় সংবাদ চা শ্রমিক সর্দার উত্তম জানান, সামনের মাসগুলোতে আরও বেশি পাতা পাওয়া যাবে। ভালো পাতা পাওয়ায় নারী শ্রমিকরা সহজেই নিরিখ পূর্ণ করতে পারছেন, এতে সবাই বেশ খুশি। চা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ছেরাগ আলী মাস্টার উৎপাদিত চায়ের গুণগত মান ভালো হওয়ার কথা উল্লেখ করার পাশাপাশি বাগানে পোকামাকড়ের আক্রমণের কথাও জানিয়েছেন। রোগবালাই দমনে তিনি বাগান কর্তৃপক্ষের নজর দেয়ার দাবি করেন। বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশনের সিলেট শাখার চেয়ারম্যান জি এম শিবলী জানান, ‘এই আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে এ বছর রেকর্ড পরিমাণ চা উৎপাদন হবে।’ অপরদিকে, চায়ের গুণগত মান ও উৎপাদন বাড়াতে এ বছর বাগানগুলোতে সব ধরনের সহায়তা দেয়ার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ চা বোর্ডের প্রকল্প উন্নয়ন পরিচালক ড. এ কে এম রফিকুল হক। বাংলাদেশ চা বোর্ডের দেয়া তথ্যমতে, চলতি বছর (২০২৬ সাল) দেশে ১০ কোটি ৪০ লাখ কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

Go to News Site