Jagonews24
জায়গাটিতে নদী বা খাল-বিল নেই। একটি ছোট জলাশয় থাকলেও তা আবদ্ধ। অর্থাৎ জায়গাটি দিয়ে কোনো পানি প্রবাহিত হয় না। তবুও এমন একটি স্থানেই প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে একটি সেতু। ঘটনাটি ফরিদপুরের নগরকান্দায় উপজেলায়। এমন একটি সেতুটি বাস্তবায়ন করছে ফরিদপুর সড়ক বিভাগ। স্থানীয়দের ভাষ্য, এখানে সেতু করা মানে সরকারি অর্থের অপচয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফরিদপুরের গোয়ালন্দ-তাড়াইল আঞ্চলিক সড়কের নগরকান্দা উপজেলার কালীখোলা এলাকায় নির্মিত হচ্ছে সেতুটি। একসময় এখানে থাকা একটি খালের ওপর একটি সেতু ছিল। কিন্তু এখন সেই স্থানটিতে খাল, নদী-নালা নেই। ওই এলাকায় বাড়ি-ঘর তৈরি হয়েছে অনেক আগেই। ফলে নদী-খালের কোনো অস্তিত্ব নেই। ফরিদপুর সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার বিভাগের অর্থায়নে ৪৪ মিটার দৈর্ঘ্যে ও ৩২ মিটার প্রস্থের প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে সেতুটি। বর্তমানে সেতুর পাইলিংয়ের কাজ চলছে। সেতুটি যেখানে নির্মিত হচ্ছে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের কালিখোলা এলাকায়। এখানে একসময় ভুবনেশ্বর নদী থেকে বের হয়ে আসা গোপালপুর শাখা খাল ছিল। বর্তমানে খালটি বিলীন হয়ে গেছে। সেই সময়ে চলমান খালের ওপরে স্থানীয় সরকার বিভাগ (এলজিইডি) থেকে নির্মিত ৩৬ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি পুরোনো সেতু ছিল। সেতুটির প্রস্থ ছিল ১২ ফুট। সেই পুরোনো সেতুটি ভেঙে ফেলে নতুন সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। তবে সময়ের বিবর্তনে দুই পাশেই বাড়িঘর হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে নির্মাণাধীন নতুন সেতুর নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ফজলুল হক জাগো নিউজকে বলেন, ‘এখানে নদী-খাল-নালা কিছুই নেই। না আছে বড় কোনো জলাশয়। দুই পাশেই বাড়িঘর হয়ে গেছে। এখানে সেতুর কোনো প্রয়োজন ছিল না। এতে সরকারের বড় অংকের টাকা অযথা নষ্ট হচ্ছে।’ আরেক বাসিন্দা তারা প্রামাণিক বলেন, ‘দুই পাশে বাড়িঘর গড়ে ওঠায় এখানে সেতুর প্রয়োজন নেই। কেননা দুই পাশে পানি প্রবাহের কোনো ব্যবস্থা নেই।’ সেতুটির ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান অবরন ট্রেডার্স লিমিটেডের দায়িত্বে থাকা সাইট ইঞ্জিনিয়ার বাবু হোসেন বলেন, ‘সেতুটির দৈর্ঘ্যে ৪৪ মিটার। দ্রুতগতিতে কাজ চলছে। এখন সেতুর নিচের পাইলিংয়ের কাজ চলছে।’ উপজেলার রামনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. কাইমদ্দিন মন্ডল জাগো নিউজকে বলেন, ‘কী কারণে ওখানে এত টাকা খরচ করে সেতু করা হচ্ছে তা আমার বুঝে আসে না। এতে সরকারের বিপুল পরিমাণ টাকা অপচয় হচ্ছে।’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফরিদপুর সড়ক বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (এসও) মো. জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আগে এখানে সেতু ছিল। এ কারণে আমরা প্রতিবেদন আকারে ঢাকায় পাঠানোর পর এটি পাস হয়ে আসে। যেহেতু এখানে সেতু ছিল, তাই বিষয়টি তুলে ধরেই প্রতিবেদন পাঠাতে হবে। ওই স্থানে সেতুর প্রয়োজন নেই, এটা আমরা লিখতে পারি না।’ এসআর/এমএস
Go to News Site