Jagonews24
দীর্ঘ আইনি লড়াই ও বাধা পেরিয়ে ২৭ বছর আগে জন্ম নেওয়া এক যুবককে সন্তানের স্বীকৃতি দিলেন বাবা। চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা গ্রামের এ ঘটনায় স্বস্তি ফিরেছে সংশ্লিষ্ট দুই পরিবারে। চট্টগ্রাম জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের মধ্যস্থতায় পরিচালিত ডিএনএ পরীক্ষায় পিতৃত্বের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর যুবককে আনুষ্ঠানিকভাবে সন্তানের স্বীকৃতি দেওয়া হয়। মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার (সহকারী সিভিল জজ) সুব্রত দাশের সভাপতিত্বে একটি মধ্যস্থতা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আইন সহায়তা প্রদান আইন, ২০০০-এর ২১গ ধারার বিধান অনুযায়ী পিতা মুরশেদ ও তার ছেলে আরিয়ানের (ছদ্মনাম) মধ্যে একটি মধ্যস্থতা চুক্তি সম্পাদিত হয়। বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের অফিস সহকারী মোহাম্মদ এরশাদুল ইসলাম। মোহাম্মদ এরশাদুল ইসলাম জানান, চুক্তির মাধ্যমে মুরশেদ আনুষ্ঠানিকভাবে আরিয়ানকে নিজের পুত্র হিসেবে স্বীকৃতি দেন এবং তাকে বৈধ ওয়ারিশ হিসেবে মেনে নেওয়ার অঙ্গীকার করেন। একই সঙ্গে আগামী শুক্রবার (১২ জুন) জুমার নামাজের সময় স্থানীয় মসজিদে উপস্থিত হয়ে আরিয়ানকে সামাজিকভাবে নিজের সন্তান হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। এ ছাড়া চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়, পিতার উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জায়গায় ঘর নির্মাণের জন্য আরিয়ানকে দুই লাখ টাকা দেবেন মুরশেদ। পাশাপাশি ওয়ারিশ সনদ প্রাপ্তির প্রক্রিয়ায়ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবেন তিনি। চট্টগ্রাম জেলা লিগ্যাল এইড অফিস সূত্রে জানা যায়, বাবার স্বীকৃতি পাওয়া যুবক আরিয়ানের জন্ম রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পোমরা গ্রামে। তার জন্মের সময় বাবা মুরশেদ প্রবাসে ছিলেন। জন্মের কিছুদিন পরই আরিয়ানের মা-বাবার বিচ্ছেদ ঘটে। পরে আরিয়ানের মা অন্যত্র বিয়ে করলে তিনি মামার বাড়িতে আশ্রয় নেন এবং সেখানেই বেড়ে ওঠেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি বাবা মুরশেদের কাছ থেকে সন্তানের স্বীকৃতি পাননি। অবশেষে পিতৃত্বের স্বীকৃতি পাওয়ার আশায় ২০২৪ সালে মাকে সঙ্গে নিয়ে চট্টগ্রাম জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে অভিযোগ করেন আরিয়ান। অভিযোগ পাওয়ার পর চট্টগ্রাম জেলা লিগ্যাল এইড অফিস মুরশেদকে নোটিশ পাঠায়। জবাবে তিনি বলেন, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পিতৃত্ব নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আরিয়ানকে সন্তানের স্বীকৃতি দেবেন না। পরে ২০২৬ সালে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার (সহকারী সিভিল জজ) সুব্রত দাশের নির্দেশনায় দুইজন প্যানেল আইনজীবীর মাধ্যমে আরিয়ান, তার মা এবং মুরশেদের ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। গত ৯ জুন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে জমা দেয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মুরশেদ ও আরিয়ানের মধ্যে ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ জৈবিক পিতা-পুত্র সম্পর্কের মিল পাওয়া যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মুরশেদ আরিয়ানকে নিজের সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি দেন। এমডিআইএইচ/এমএএইচ/
Go to News Site