Collector
Giriş Yap
বাবল সিপ্যাপ ব্যবহারে প্রশিক্ষণ নিলেন ৮ হাসপাতালের ১৬ চিকিৎসক-নার্স | Collector
বাবল সিপ্যাপ ব্যবহারে প্রশিক্ষণ নিলেন ৮ হাসপাতালের ১৬ চিকিৎসক-নার্স

বাবল সিপ্যাপ ব্যবহারে প্রশিক্ষণ নিলেন ৮ হাসপাতালের ১৬ চিকিৎসক-নার্স

শিশুদের হামজনিত নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টের চিকিৎসায় ‘বাবল সিপ্যাপ’ (Bubble CPAP) ব্যবহারের ওপর দেশের আটটি হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি আইসিডিডিআর,বি’র সেমিনার কক্ষে প্রতিষ্ঠানটির অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের নেতৃত্বে এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালিত হয়। এবারের প্রশিক্ষণে শেরপুর, জামালপুর, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, নীলফামারী, লালমনিরহাট ও পঞ্চগড় সদর হাসপাতাল এবং মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের মোট ১৬ জন চিকিৎসক ও নার্স অংশ নেন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ঝপাইগো’ (Jhpiego)-এর প্রতিনিধিরা, যারা সংশ্লিষ্ট সাতটি জেলায় বাবল সিপ্যাপের ব্যবহার মনিটরিং করবেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইসিডিডিআর,বি’র ক্লিনিক্যাল ও ডায়াগনিস্টিক সার্ভিসেস’র প্রধান ডা. ফজলুল কবীর এবং আইসিডিডিআর,বি’র ঢাকা হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক্স ও অনারারি চিফ কনসালটেন্ট প্রফেসর ডা. চৌধুরী আলী কাওসার। স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান আইসিডিডিআর,বি-কে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, দেশের এই ক্রাইসিস সময়ে সাহায্যের জন্য আইসিডিডিআর,বি ধন্যবাদ প্রাপ্য। আপনারা (প্রশিক্ষণার্থীরা) এই বাবল সিপ্যাপের ট্রেনিং থেকে যা শিখবেন, তা হাসপাতালে বাস্তবায়ন করবেন। এই বাবল সিপ্যাপের ট্রেনিং শুধু হামের জন্যই প্রযোজ্য নয়, বরং নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত সব রোগীর চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করবেন। আরও পড়ুন হামজনিত জটিলতায় শিশু চিকিৎসায় নতুন আশা ‘বাবল সিপ্যাপ’ আইসিডিডিআর,বি’র উদ্ভাবনটির দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে ডা. ফজলুল কবীর জানান, হামে শিশুদের কষ্ট দেখে আইসিডিডিআর,বি’র নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ফোন করে নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টের চিকিৎসায় এই প্রযুক্তির কার্যকারিতার কথা জানান। এরই পরিপ্রেক্ষিতে দেশব্যাপী এই প্রশিক্ষণ ও বাবল সিপ্যাপ ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত অধ্যাপক ডা. চৌধুরী আলী কাওসার বলেন, জেলা হাসপাতালগুলোতে বাবল সিপ্যাপের ব্যবহার শুরু হলে শিশুরা প্রথম পর্যায় থেকেই হামের প্রভাবে সৃষ্ট নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগের সঠিক চিকিৎসা পাবে। প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বাবল সিপ্যাপের ওপর বিজ্ঞানভিত্তিক, গবেষণালব্ধ তথ্য ও এর কার্যকারিতার বিষয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা করেন আইসিডিডিআর,বি’র মেটার্নাল অ্যান্ড চাইল্ড নিউট্রিশন বিভাগের সিনিয়র সায়েন্টিস্ট ডা. মোহাম্মদ যোবায়ের চিশতী। পরবর্তীতে অংশগ্রহণকারী চিকিৎসক ও নার্সদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন ডা. হৈমন্তী সাহা, ডা. লুবাবা শাহরিন, ডা. ফারজানা আফরোজ, ডা. নুসরাত জাহান শেলী এবং ডা. তাহমিনা আলম। আইসিডিডিআর,বি উদ্ভাবিত ‘বাবল সিপ্যাপ’ একটি সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য শ্বাস-প্রশ্বাস সহায়তা পদ্ধতি। এটি গুরুতর নিউমোনিয়া ও হাইপোক্সেমিয়ায় (রক্তে অক্সিজেনের স্বল্পতা) আক্রান্ত শিশুদের ফুসফুস সচল রাখতে এবং অক্সিজেন সরবরাহ বাড়াতে অত্যন্ত কার্যকরী। বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে এবং আইসিডিডিআর,বি’র কারিগরি সহায়তায় বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে এই বাবল সিপ্যাপের প্রশিক্ষণ ও বিনামূল্যে ইউনিট সরবরাহ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এসইউজে/এমএমকে

Go to News Site