Jagonews24
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসি (বিডিবিএল) আনুষ্ঠানিকভাবে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের চাঁদা সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করেছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান প্রধান অতিথি হিসেবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে বিডিবিএলের সারাদেশের সব শাখার কর্মকর্তারা ভার্চুয়ালি যুক্ত হন। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দেশের নাগরিকদের সর্বজনীন পেনশন স্কিমে নিবন্ধন ও মাসিক চাঁদা সংগ্রহের লক্ষ্যে গত বছরের ১৪ জুলাই বিডিবিএল ও জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়। এর আওতায় ব্যাংকের প্রিন্সিপাল ব্রাঞ্চে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নামে একটি বিশেষ এসএনডি হিসাব খোলা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংকের কোর ব্যাংকিং সিস্টেমের (সিবিএস) সঙ্গে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সফটওয়্যার ইন্টিগ্রেশন ও পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সম্পন্ন করে সেবাটি চালু করা হয়েছে। এতে আরও জানানো হয়, ইউএনএফপিএ’র প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রত্যাশিত গড় আয়ু বর্তমানে ৭৩ বছর, যা ২০৫০ সালে ৭৯.৯ বছর এবং ২০৭৫ সালে ৮৪.৩ বছরে উন্নীত হবে। ২০২৫ সালে প্রতি ১০ জনে একজন এবং ২০৫০ সালে প্রতি ৫ জনে একজন ষাটোর্ধ্ব মানুষ হবেন বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বয়স্ক জনগোষ্ঠীর নির্ভরশীলতার অনুপাত ২০২২ সালে যেখানে ছিল মাত্র ৮.৬ শতাংশ, তা ২০৫০ সালে ২৪ শতাংশ এবং ২০৭৫ সালে ৪৮ শতাংশে পৌঁছাবে, যা একটি সুসংগঠিত পেনশন ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তাকে আরও জরুরি করে তুলেছে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মো. সুরাতুজ্জামান বলেন, ২০২৩ সালের আগস্টে চালু হওয়া সর্বজনীন পেনশন স্কিম ১৮ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী দেশের সব নাগরিকের জন্য উন্মুক্ত। বেসরকারি চাকরিজীবী, কৃষক, দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরাও এতে অংশ নিতে পারবেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ক্রমাগত বাড়ছে এবং আগামী দশকগুলোতে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। এ প্রেক্ষাপটে একটি কার্যকর ও টেকসই পেনশন ব্যবস্থা গড়ে তোলা সময়ের দাবি। বর্তমানে দেশের প্রায় ৮৫ শতাংশ শ্রমশক্তি অনানুষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত, যেখানে পেনশন বা ভবিষ্য তহবিলের সুবিধা নেই। সর্বজনীন পেনশন স্কিমের মাধ্যমে এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আরও পড়ুন ঝিমিয়ে পড়েছে সর্বজনীন পেনশন, এক বছরে নতুন নিবন্ধন চার হাজার তিনি আরও বলেন, সর্বজনীন পেনশন স্কিম কোনো নির্দিষ্ট চাকরি বা খাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি দেশের সব নাগরিকের জন্য। বিডিবিএলের সঙ্গে এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে আমরা আরও বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে পেনশন সুবিধা পৌঁছে দিতে সক্ষম হব। অনুষ্ঠানে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের চারটি বিদ্যমান স্কিম- প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়। স্কিমভেদে মাসিক এক হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। চাঁদার পরিমাণ ও মেয়াদের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ পেনশনের পরিমাণ নির্ধারিত হবে। এসময় জানানো হয়, সর্বজনীন পেনশন কার্যক্রম সম্প্রসারণে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) সহজ শর্তে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং এ বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই কার্যক্রম চলমান। পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারের প্রতিটি পরিবার থেকে অন্তত একজন সদস্যকে কোনো না কোনো পেনশন স্কিমের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শরিয়াহভিত্তিক পেনশন স্কিম চালুর প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের ধর্মপ্রাণ জনগোষ্ঠীর চাহিদা বিবেচনায় বিদ্যমান প্রতিটি স্কিমের ইসলামিক সংস্করণ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া নমিনিদের জন্য আজীবন পেনশন সুবিধা চালুর বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। বিডিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. জসীম উদ্দিন বলেন, সর্বজনীন পেনশন স্কিমে ব্যাংকের সম্পৃক্ততা দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ করবে। ব্যাংকের বিস্তৃত শাখা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও সহজে এ সেবার আওতায় আসতে পারবেন। এমএএস/ইএ
Go to News Site