Jagonews24
মধ্যরাত। রাজধানীর রায়েরবাজারের বউবাজার এলাকা প্রায় নিস্তব্ধ। তবে নিঝুম এ রাতেও একটি একতলা ভবনের গ্যারেজে জ্বলছে টিমটিমে আলো। সারাদিনের খ্যাপ শেষে সারিবদ্ধভাবে চার্জে বসানো হয়েছে একের পর এক ব্যাটারিচালিত রিকশা। গ্যারেজ মালিক হোসেন আলী জমার টাকা হাতে নিতে নিতে একটি রিকশায় চার্জের প্লাগ জুড়ে দিয়ে উচ্চকণ্ঠে বলেন, ‘রহিম মিয়া, চার্জে দিয়ে দিছি। সকালে নিয়ে যাইবা।’ সম্প্রতি এক চালকের মাধ্যমে পরিচয় গোপন রেখে সরেজমিনে ওই গ্যারেজে যান জাগো নিউজের এ প্রতিবেদক। গিয়ে দেখা যায়, গ্যারেজটিতে একসঙ্গে ২০ থেকে ৩০টি রিকশা চার্জ দেওয়া হচ্ছে। খোলা তার, অতিরিক্ত লোডযুক্ত মাল্টিপ্লাগ এবং নিম্নমানের চার্জার দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে পরিচালিত হচ্ছে ব্যাটারির চার্জ কার্যক্রম। আরও পড়ুন সরকার বদলায়, বহাল তবিয়তে থাকে রিকশা সিন্ডিকেট হোসেন আলী দাবি করেন, প্রতিটি রিকশার চার্জ বাবদ তিনি নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেন। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ ভিন্ন। তাদের দাবি, এ এলাকার অধিকাংশ গ্যারেজেই আবাসিক লাইনে অবৈধ সংযোগ নেওয়া হয়েছে এবং মিটার বাইপাস করে বিদ্যুৎ চুরি চলছে। গ্যারেজের এক কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘বৈধ লাইন নিলে খরচ বেশি পড়ে, তাই অনেকে শর্টকার্টে সংযোগ নেন।’ তিনি দাবি করেন, বৈধ লাইন নিতে ৬০-৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। তাই সবাই অবৈধ লাইনে ঝুঁকছে। পাড়া-মহল্লায় গ্যারেজের ছড়াছড়ি শুধু রায়েরবাজার নয়, রাজধানীজুড়ে এই গ্যারেজ বাণিজ্য এখন অপ্রতিরোধ্য গতিতে বাড়ছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, রায়েরবাজার ট্যানারি মোড়, হাজারীবাগ, কামরাঙ্গীরচর, মোহাম্মদপুর, যাত্রাবাড়ী, লালবাগ ও নবাবগঞ্জ এলাকায় টিনশেড ঘর, খালি প্লট ও পরিত্যক্ত গুদাম ঘিরে গড়ে উঠেছে অসংখ্য গ্যারেজ। স্থানীয়রা বলছেন, একেকটি মহল্লায় ১০টিরও বেশি এমন গ্যারেজ সচল। রাতে অরক্ষিতভাবে দেওয়া হচ্ছে চার্জ/জাগো নিউজ এসব অটোরিকশার কোনোটিতে চারটি, কোনোটিতে আবার ছয়টি করে ব্যাটারি লাগানো। এসব ব্যাটারি সাধারণত ১২ ভোল্টের, চার্জ হতে সময় লাগে ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা। বেশিরভাগ গ্যারেজে স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে অতিরিক্ত লোডযুক্ত লাইনে খোলা তার ও নিম্নমানের চার্জার ব্যবহার করে রাতভর চার্জ দেওয়া হয়। বৈধ ৩ হাজার, অবৈধ ৫০ হাজার! সরকারি হিসাবে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় অনুমোদিত চার্জিং স্টেশন প্রায় তিন হাজার ৩শটি। এর মধ্যে ডিপিডিসি এলাকায় রয়েছে প্রায় দুই হাজার ১০০টি। অন্যায়কারী তো অন্যায় করেই। বিষয়টি নিয়ে আমাদেরও অনেক ঝামেলা হচ্ছে। এগুলো নিয়ে পেপার-পত্রিকায় আসছে, মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের ওপর চাপ আছে। তবে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে মামলাও দেওয়া হচ্ছে।-ডিপিডিসির নির্বাহী পরিচালক (অপারেশন) মো. রবিউল হাসান জাগো নিউজের হাতে আসা ডেসকোর মে ২০২৬ সালের একটি নথিতে দেখা যায়, তাদের আওতায় বৈধ চার্জিং সংযোগ মাত্র দুই হাজার ৯৯৭টি, যেখানে প্রায় ১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হচ্ছে। অথচ বৈধ ব্যবস্থার বাইরে রাজধানীজুড়ে অন্তত ৪৮ হাজারেরও বেশি অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট সক্রিয় বলে উঠে এসেছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা প্রতিবেদনে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর ১০টি অপরাধ বিভাগের আটটিতে ব্যাটারিচালিত রিকশার বৈধ চার্জিং স্টেশন রয়েছে। এরপরও অন্তত ৪৮ হাজার ১৩৬টি অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট ও ৯৯২টি গ্যারেজ। আরও পড়ুন ঢাকার সড়কের নতুন ‘যমদূত’ বিদ্যুৎ বিভাগ মূলত মাঝে মধ্যে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। এক্ষেত্রে পুলিশের বক্তব্য, তারা মোবাইল টিমের সদস্য হিসেবে অংশ নেয়। আলাদা কোনো ব্যবস্থা তারা নেয় না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডেসকোর ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা স্বীকার করেন, ‘অবৈধ চার্জিংয়ের কারণে গ্রিড ও ট্রান্সফরমারে ধারণক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।’ ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) নির্বাহী পরিচালক (অপারেশন) মো. রবিউল হাসান জাগো নিউজকে বলেন, ‘এগুলো নিয়ে আমাদের নজরদারি আছে। নজরদারি সত্ত্বেও কেউ কেউ অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে চুরি করতে পারে।’ তিনি বলেন, ‘অন্যায়কারী তো অন্যায় করেই। বিষয়টি নিয়ে আমাদেরও অনেক ঝামেলা হচ্ছে। এগুলো নিয়ে পেপার-পত্রিকায় আসছে, মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের ওপর চাপ আছে। তবে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে মামলাও দেওয়া হচ্ছে।’ গ্যারেজে চার্জ দেওয়া হচ্ছে রিকশা/জাগো নিউজ বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার কর্মকর্তারা বলছেন, অবৈধ সংযোগ ও মিটার বাইপাসের বিষয়টি তাদের নজরদারির আওতায় থাকলেও গ্যারেজ পরিচালনা ও লাইসেন্সিংয়ের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। ফলে দুই পক্ষের মধ্যে সমন্বয়হীনতা তৈরি হয়েছে, যার সুযোগ নিচ্ছে অবৈধ ব্যবসায়ীরা। বিষয়টি নিয়ে কথা হলে বুয়েটের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ এহসান জাগো নিউজকে বলেন, ‘এ খাত থেকে বিশাল অঙ্কের অবৈধ লেনদেন হওয়ায় কার্যকর আইন প্রয়োগ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘রাস্তায় চলাচলের জন্য চালক বা মালিকদের নিয়মিতভাবে কাউকে না কাউকে অর্থ বা বখরা দিতে হয়। ফলে একটি অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক চক্র তৈরি হয়েছে।’ দৈনিক ৩০ কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্য সিপিডির গবেষণা তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় বর্তমানে প্রায় ২০ লাখ ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করছে। প্রতিটি রিকশার জন্য গ্যারেজ মালিকরা দৈনিক গড়ে ৭০ থেকে ১৫০ টাকা চার্জ ফি নেন। এই হিসাবে শুধু চার্জিং ঘিরেই প্রতিদিন ১৪ থেকে ৩০ কোটি টাকার অনানুষ্ঠানিক লেনদেন হচ্ছে। মাসে তা দাঁড়ায় ৪১০ থেকে ৯০০ কোটি টাকা। বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলারের অনিয়ন্ত্রিত চার্জিং নগরের পরিবহন ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় নতুন চাপ তৈরি করছে। এগুলো এখন ফিডার ট্রান্সপোর্ট হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও কাঠামোবদ্ধ নয়। নিয়ন্ত্রণহীন বিস্তার না থামালে নগর ব্যবস্থাপনায় ঝুঁকি আরও বাড়বে।-সিপিডির প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট মো. খালিদ মাহমুদ জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের হিসাবে, একটি ব্যাটারিচালিত রিকশা প্রতিদিন গড়ে ৬ থেকে ৮ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। দেশজুড়ে এ খাতে প্রতিদিন প্রায় ৭০০ থেকে ৭৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হচ্ছে, যার সিংহভাগই অনানুষ্ঠানিক ও অবৈধ উৎস থেকে আসে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এ খাতে বছরে প্রায় চার হাজার কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন ও বিদ্যুৎ চুরি হচ্ছে। এই বিপুল অর্থপ্রবাহের পুরোটাই কর, লাইসেন্স ও আনুষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর বাইরে পরিচালিত হচ্ছে। অবৈধ চার্জিংয়ের কারণে রাষ্ট্র ঠিক কত টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে তার সঠিক হিসাব অবশ্য কারও কাছে নেই। আরও পড়ুন চাকার নিচে পিষ্ট ঢাকা সিপিডির প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট মো. খালিদ মাহমুদ বলেন, ‘বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলারের অনিয়ন্ত্রিত চার্জিং নগরের পরিবহন ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় নতুন চাপ তৈরি করছে। এগুলো এখন ফিডার ট্রান্সপোর্ট হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও কাঠামোবদ্ধ নয়। নিয়ন্ত্রণহীন বিস্তার না থামালে নগর ব্যবস্থাপনায় ঝুঁকি আরও বাড়বে।’সিপিডির গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, অনিয়ন্ত্রিত চার্জিং ব্যবস্থার কারণে মূলত তিনটি বড় সংকট তৈরি হচ্ছে। সংকটগুলো হলো বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় অতিরিক্ত লোড, নগর ব্যবস্থাপনায় নিয়ন্ত্রণ শিথিল এবং অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতির বিস্তার। বিদ্যুৎ ব্যবহার নিয়ে যা বলছেন শ্রমিক নেতা রিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম ব্যাটারিচালিত রিকশাকে শহরের ‘লাস্ট মাইল ভেহিক্যাল’ যাতায়াত মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার তুলনায় পর্যাপ্ত গণপরিবহন না থাকাকে যানজটের মূল কারণ বলে উল্লেখ করেন। রাতে অরক্ষিতভাবে দেওয়া হচ্ছে চার্জ/জাগো নিউজ তিনি বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশার বিদ্যুৎ ব্যবহার নিয়ে প্রচলিত নেতিবাচক ভুল ধারণা রয়েছে। বাসাবাড়িতে ব্যবহৃত একটি এসি এক ঘণ্টায় যতটা বিদ্যুৎ খরচ করে, একটি রিকশা পুরো চার্জ হতে ততটুকু বিদ্যুৎ নেয়। ঢাকা শহরে ১৫ থেকে ২০ লাখ এসি যদি এক ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয় তাহলে সে বিদ্যুৎ দিয়ে সব রিকশা চার্জ দেওয়া যায়।’ তিনি ঢাকার একটি বৃহৎ শপিংমলের উদাহরণ টেনে বলেন, তারা একদিনে যে বিদ্যুৎ খরচ করে তা ১০ লাখ রিকশার সারাদিনের বিদ্যুৎ খরচের সমান। সেখানে মাত্র কয়েক হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়। অথচ কেন লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী রিকশাকে দোষারোপ করা হয়।’ অগ্নিঝুঁকির ‘টাইম বোমা’ গ্যারেজ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় নিয়মহীনভাবে গড়ে ওঠা গ্যারেজগুলো এখন একেকটি বারুদের গোলা! সম্প্রতি রাজধানীর গোপীবাগ এলাকায় একটি রিকশা গ্যারেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের ছয়টি ইউনিট দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার এরশাদ হোসেন ওই সময় জানান, আগুনের সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া না গেলেও স্থানীয়দের ধারণা, ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ সংযোগ থেকে ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার কারণেই শর্টসার্কিট হয়ে আগুনের সূত্রপাত। পরে এ বিষয়ে কথা হলে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মিডিয়া কর্মকর্তা শাহজাহান শিকদার জাগো নিউজকে বলেন, ‘গ্যারেজে ব্যাটারি চার্জের কারণে অগ্নিকাণ্ড ঘটছে কি না তার সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান আমাদের কাছে নেই। তবে সাধারণভাবে বলা যায়, ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক সংযোগ থেকে যে কোনো মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’ ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানান, শর্টসার্কিট ও অতিরিক্ত লোড এখন নগরের অন্যতম প্রধান অগ্নিঝুঁকি। নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, দিল্লি ও জাকার্তার মতো মেগাসিটিতেও অনিয়ন্ত্রিত ই-রিকশা চার্জিং নেটওয়ার্ক একই ধরনের অগ্নিঝুঁকি ও গ্রিড বিপর্যয় তৈরি করেছিল। ব্যবসায়ী-অন্য চালকদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া রাজধানীর নীলক্ষেতের লিফানাহ ফটোস্ট্যাট দোকানের মালিক শাজাহান মিয়া বলেন, ‘সরকার বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য সন্ধ্যার পর দোকানপাট ও শপিংমল বন্ধে কঠোর অবস্থান নেয়। অথচ ব্যাটারিচালিত রিকশার অবৈধ চার্জিংয়ে প্রতিদিন বিপুল বিদ্যুৎ ব্যবহার হলেও সেটি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেই।’ শাহবাগ এলাকায় যাত্রী পাওয়ার আশায় আধঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক ও মালিক মোতালেব মিয়া। তার সামনে দিয়ে ব্যাটারিচালিত রিকশাচালকরা একের পর এক যাত্রী নিয়ে চলে যেতে দেখে তিনি বলেন, ঢাকা শহরে হাজার হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশা রাস্তায় নামার কারণে আমরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। আমরা বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত যানবাহন হিসেবে সরকারকে প্রতি বছর নির্দিষ্ট ফি দেই। কিন্তু এদের রেজিস্ট্রেশন নেই।’ সরকার বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য সন্ধ্যার পর দোকানপাট ও শপিংমল বন্ধে কঠোর অবস্থান নেয়। অথচ ব্যাটারিচালিত রিকশার অবৈধ চার্জিংয়ে প্রতিদিন বিপুল বিদ্যুৎ ব্যবহার হলেও সেটি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেই।-দোকান মালিক শাজাহান মিয়া ক্ষোভ জানিয়ে তিনি বলেন, ৬০-৭০ হাজার টাকা হলেই প্যাডেলচালিত রিকশায় মটর লাগিয়ে রাস্তায় নামিয়ে দেয়। রাতে হাজার হাজার রিকশা অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে ব্যাটারি চার্জ করে। ফলে সরকারের বিপুল অঙ্কের অর্থ খরচ হয়। রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত রিকশা একেবারে বন্ধ না করলেও নিবন্ধনের আওতায় আনা উচিত।’ নেই নীতিমালা সরকার ‘বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা–২০২৫’-এর খসড়া তৈরি করলেও বাস্তবে এ খাত এখনো সম্পূর্ণ লাইসেন্সবিহীন ও নীতির বাইরে রয়ে গেছে। ব্র্যাকের রোড সেফটি প্রোগ্রামের ম্যানেজার ইঞ্জিনিয়ার মতিউর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘এটি এখন শুধু পরিবহন খাত নয়, একটি বড় নগর অর্থনীতি। নিষেধাজ্ঞা নয়, পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার আওতায় আনাই এখন জরুরি।’ রিকশা চার্জে বসিয়ে বাসায় ফিরবেন চালক সামাদ/জাগো নিউজ খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ব্যাটারিচালিত রিকশা বা থ্রি-হুইলারের চলাচল, নিয়ন্ত্রণ ও নিবন্ধন ব্যবস্থাপনায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার বিভাগ (সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা) এবং বিদ্যুৎ বিভাগও সম্পৃক্ত। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জাগো নিউজকে জানান, অনিয়ন্ত্রিতভাবে চলাচলকারী বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলারকে আইনি কাঠামোর আওতায় আনতে ‘বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা’ প্রণয়ন করা হয়েছে। খসড়া নীতিমালায় মহাসড়ক ছাড়া নির্দিষ্ট রুট বা ফিডার সড়কে এসব যানবাহনের চলাচল সীমিত করা, কারিগরি মান নিশ্চিত করা এবং গতিসীমা নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। একই সঙ্গে যাত্রীভাড়া নির্ধারণের দায়িত্ব বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ওপর ন্যস্ত করার কথাও বলা হয়েছে। খসড়া অনুযায়ী, সব ধরনের বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলারের বাণিজ্যিক অনুমোদনের ক্ষেত্রে বিআরটিএর নির্ধারিত নকশা ও কারিগরি মান অনুসরণ বাধ্যতামূলক হবে। মোটর, ব্যাটারি ও ব্রেকিং সিস্টেমের মান যাচাই এবং ফিটনেস তদারকির দায়িত্বও বিআরটিএর ওপর থাকবে। তবে নীতিমালার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে বিআরটিএর বিকল্প তথ্য কর্মকর্তা ও উপপরিচালক (আইন) তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী জাগো নিউজকে বলেন, এ বিষয়ে কোনো কমিটি গঠন করা হয়েছে কি না, তা জানা নেই।’ বলা যায়, যে বিদ্যুৎ শহরকে আলোকিত ও শিল্পকে সচল রাখার কথা, সেই বিদ্যুৎ এখন চুরি হয়ে জ্বলছে ঝুঁকিপূর্ণ গ্যারেজে। এ অনিয়ন্ত্রিত চার্জ বাণিজ্যের দায় শেষ পর্যন্ত কে নেবে? আর কতদিন চলবে অন্ধকারের ভেতরের এই বিপজ্জনক বিদ্যুতের খেলা? পরবর্তী পর্বে পড়ুন: দিনশেষে রিকশাচালকরা সেই \'পেটে ভাতে\', মালিকদের \'পোয়াবারো\' এমইউ/এএসএ/এমএফএ
Go to News Site