Jagonews24
বিশ্বকাপ এলেই বাঙালির ফুটবল উন্মাদনা যেন নতুন করে জেগে ওঠে। পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যায় প্রিয় দলের প্রতি সমর্থনের প্রকাশ। আর এই সমর্থনের অন্যতম বড় মাধ্যম হলো দলের জার্সি। শুধু খেলা দেখার সময় নয়, বর্তমানে জার্সি ফ্যাশনেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। তরুণদের অনেকেই নিয়মিত পোশাক হিসেবেও প্রিয় দলের জার্সি পরতে পছন্দ করেন। ফলে বড় টুর্নামেন্টের সময় বাজারে জার্সির চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। জার্সি কেন এত জনপ্রিয়? একটি জার্সি শুধু একটি পোশাক নয়, বরং সমর্থকদের আবেগ, পরিচয় এবং ভালোবাসার প্রতীক। প্রিয় দলের জার্সি গায়ে চাপালে সমর্থকেরা নিজেদের সেই দলের অংশ বলেই অনুভব করেন। একই সঙ্গে জার্সির আকর্ষণীয় নকশা, রং এবং আধুনিক ডিজাইন এটিকে ফ্যাশনেরও অনুষঙ্গ করে তুলেছে। বর্তমানে অনেক আন্তর্জাতিক ক্লাব ও জাতীয় দল তাদের জার্সির মাধ্যমে আলাদা ব্র্যান্ড পরিচিতি তৈরি করছে। সেই কারণে জার্সি এখন শুধু খেলার মাঠের পোশাক নয়, বরং স্টাইল স্টেটমেন্টও। বাজারে যে ধরনের জার্সি পাওয়া যায় বাংলাদেশের বাজারে সাধারণত তিন ধরনের জার্সি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। বাজেট ও প্রয়োজন অনুযায়ী ক্রেতারা এগুলোর মধ্যে থেকে পছন্দেরটি বেছে নিতে পারেন। সাপোর্টার বা ফ্যান ভার্সন জার্সি এ ধরনের জার্সি সাধারণ সমর্থকদের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়। এগুলোর ফিটিং কিছুটা ঢিলেঢালা হওয়ায় সব বয়সী মানুষের জন্য আরামদায়ক। ফ্যান ভার্সন জার্সির লোগো ও ব্র্যান্ডিং সাধারণত সুতার এমব্রয়ডারিতে করা থাকে, ফলে এটি বেশ টেকসই হয়। নিয়মিত ব্যবহার ও ধোয়ার পরও সহজে নষ্ট হয় না। বর্তমানে বাজারে এবং অনলাইন স্টোরগুলোতে এই ধরনের জার্সির দাম সাধারণত ৭০০ থেকে ১,০০০ টাকার মধ্যে। দল ও ডিজাইনের ওপর নির্ভর করে দাম কিছুটা কমবেশি হতে পারে। প্লেয়ার ভার্সন জার্সি যারা আরও প্রিমিয়াম মানের জার্সি চান, তাদের জন্য রয়েছে প্লেয়ার ভার্সন। মাঠে ফুটবলাররা যেসব জার্সি পরে খেলেন, এই জার্সিগুলো প্রায় একই প্রযুক্তিতে তৈরি করা হয়। এগুলো অত্যন্ত হালকা, শরীরঘেঁষা স্লিম-ফিট এবং ঘাম দ্রুত শুকানোর উপযোগী ফ্যাব্রিক দিয়ে তৈরি। এছাড়া জার্সিতে বিশেষ মাইক্রো-ভেন্টিলেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়, যা বাতাস চলাচল সহজ করে। লোগো ও প্যাচগুলোও সাধারণত হিট-প্রেস বা রাবার প্রিন্টে তৈরি করা হয়। স্টাইলিশ ও অ্যাথলেটিক লুকের কারণে তরুণদের কাছে এই জার্সির জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি। বাজারে প্লেয়ার ভার্সন জার্সির দাম সাধারণত ১,০০০ থেকে ১,৫০০ টাকার মধ্যে। কম দামের রিপ্লিকা জার্সি যারা কম বাজেটে প্রিয় দলের জার্সি কিনতে চান, তাদের জন্য রয়েছে রিপ্লিকা বা স্থানীয়ভাবে তৈরি জার্সি। এগুলো মূল জার্সির ডিজাইন অনুসরণ করে দেশেই তৈরি করা হয়। ফলে আসল জার্সির মতো সূক্ষ্ম ডিটেইল বা উন্নতমানের ফ্যাব্রিক এতে থাকে না। তবে দেখতে প্রায় একই রকম হওয়ায় অনেকেই এগুলো কিনতে আগ্রহী হন। ঢাকার গুলিস্তান, নিউমার্কেট, স্টেডিয়াম মার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকায় এসব জার্সি সহজেই পাওয়া যায়। দাম সাধারণত ৩০০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে। যেখানে পাওয়া যাবে বর্তমানে ঢাকার নিউমার্কেট, গুলিস্তান, স্টেডিয়াম মার্কেট, বসুন্ধরা সিটি ও বিভিন্ন স্পোর্টস শপে প্রিয় দলের জার্সি পাওয়া যায়। এছাড়া অনলাইন সাইড অথবা ডটকম-এ ও বিভিন্ন অনলাইন ফ্যাশন ও স্পোর্টস স্টোরেও বিশ্বকাপ ও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট উপলক্ষে নানা ধরনের জার্সি বিক্রি করা হয়। প্রিয় দলের জার্সি কেনার সময় কাপড়ের মান, প্রিন্টের গুণগত মান এবং সাইজ ঠিক আছে কি না, সেদিকে খেয়াল রাখা জরুরি। কারণ ভালো মানের জার্সি শুধু খেলার মৌসুমেই নয়, দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়। ফুটবলপ্রেমীদের কাছে জার্সি শুধু একটি পোশাক নয়, বরং আবেগের প্রকাশ। তাই বাজেট অনুযায়ী সঠিক জার্সি বেছে নিলে প্রিয় দলের প্রতি ভালোবাসাও প্রকাশ পাবে। আরও পড়ুন ৪১ বছরেও ফিট থাকার রহস্যে জানালেন রোনালদোর শেফ গরমে পোশাকে সুন্দর দেখাতে গিয়ে কি নিজের আরাম ভুলে যাচ্ছেন? এসএকেওয়াই
Go to News Site