Jagonews24
ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে উন্মাদনা। তার ছোঁয়া লেগেছে বাংলাদেশেও। পছন্দের দলকে সমর্থন দিতে বিভিন্ন মাধ্যমে বেছে নিয়েছেন তারা। তাদেরই একজন মাগুরার সদর উপজেলার ঘোড়ামারা গ্রামের আমজাদ হোসেন। তিনি ৩০ শতক জমি বিক্রি করে তৈরি করেছেন পছন্দের দল জার্মানির পতাকা। তবে এবারই প্রথম নয়, বিশ্বের দীর্ঘতম জার্মানির পতাকা বানিয়ে প্রদর্শন করে বারবার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে শিরোনাম হয়েছেন তিনি। বুধবার (১০ জুন) বেলা সাড়ে ১১টায় মাগুরা সদর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর স্কুল মাঠে বিশাল এলাকাজুড়ে এই পতাকা প্রদর্শন করা হয়। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে জার্মানি ফুটবল দলের ভক্তরা তার এ পদর্শনী দেখতে আসেন। প্রতি বিশ্বকাপেই তার বানানো পতাকার দৈর্ঘ্য বাড়ে বলে জানিয়েছেন ভক্তরা। ২০০৬ সালে দেড় কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের জার্মানির পতাকা তৈরি করে আলোচনায় আসেন আমজাদ হোসেন। ২০১০ সালের বিশ্বকাপের সময় পতাকা হয় আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ। ২০১৪ সালে সাড়ে তিন কিলোমিটার। ২০১৮ সালে পতাকার দৈর্ঘ্য ছিল সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার। এবারের বিশ্বকাপ উপলক্ষে আমজাদ হোসেন তৈরি করেছেন সাড়ে সাত কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের জার্মানির পতাকা। জার্মান দলের প্রতি এই অসামান্য ভালোবাসা দেখে ২০১৪ সালে তৎকালীন জার্মান রাষ্ট্রদূত আমজাদ হোসেনের বাড়িতে যান। সেসময় তাকে জার্মান দূতাবাসের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হয় এবং জার্মান ফুটবল দলের অফিসিয়াল ফ্যান ক্লাবের আজীবন সদস্যপদ দেওয়া হয় এই ফুটবলপ্রেমীকে। পতাকা দেখতে আসা কুষ্টিয়ার সমর্থক নজরুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমজাদ ভাই জার্মান ফুটবল দলের প্রতি যে ভালোবাসা দেখিয়েছেন, সেটা বিরল। আমরা আমজাদ ভাইয়ের মতো জার্মানিকে ভালোবাসি।’ প্রতি বিশ্বকাপের সময় এত টাকা খরচ করে জার্মানির পতাকা তৈরির কারণ জানতে চাইলে আমজাদ হোসেন বলেন, ‘২০০৫ সালের দিকে কঠিন পীড়ায় আক্রান্ত হই। বিভিন্ন ওষুধ খেয়েও কোনো কাজ হচ্ছিল না। তখন মাগুরা শহরের একজন চিকিৎসকের পরামর্শে জার্মানির তৈরি হোমিও ওষুধ সেবন করে আরোগ্য লাভ করি। এরপর থেকেই জার্মানি দেশের প্রতি আমার এই ভালোবাসা।’ তিনি বলেন, ‘২০০৬ সালে জার্মানিতে বিশ্বকাপ ফুটবলের আসর বসে। তখন মনে মনে ঠিক করি, জার্মানির ওষুধ সেবন করে যেহেতু ভালো হয়েছি, তাই দেশটিকে একটি উপহার দেবো। তারপর থেকে পতাকা তৈরি করে আসছি।’ এবার বিশাল দৈর্ঘ্যের এই পতাকা জার্মানির জাদুঘরে সংরক্ষণের জন্য উপহার দিতে চান বলে জানান জার্মান ফুটবল দলের এই ভক্ত। মিনারুল ইসলাম জুয়েল/এসআর/জেআইএম
Go to News Site