Jagonews24
ইটভাটার অগ্রিম কর বাড়িয়ে দ্বিগুণের বেশি করতে যাচ্ছে সরকার। একই সঙ্গে ইটভাটার লাইসেন্স প্রদান ও নবায়নের ক্ষেত্রে আরও কঠোর শর্ত আরোপ করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এ বিষয়ে ঘোষণা দেওয়া হতে পারে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করতে পারেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিশাল এ বাজেটের অর্থ সংগ্রহ করতে বিভিন্ন খাতে কর বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে বাড়ানো হচ্ছে ইটভাটার অগ্রিম কর। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩-এর আওতায় ইটভাটার অনুমতি বা লাইসেন্স নবায়নের জন্য আবেদনকারীকে উপকর কমিশনার কর্তৃক প্রত্যয়িত আয়কর চালান এবং পূর্ববর্তী করবর্ষের কর পরিশোধ সনদ জমা দিতে হয়। এক্ষেত্রে এক সেকশন ইটভাটার জন্য কর নির্ধারিত রয়েছে ৪৫ হাজার টাকা, দেড় সেকশনের জন্য ৭০ হাজার টাকা, দুই সেকশনের জন্য ৯০ হাজার টাকা এবং স্বয়ংক্রিয় মেশিনে পরিচালিত ইটভাটার জন্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তবে আগামী অর্থবছরে আইনে করহার পুনর্নির্ধারণ করে তা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে সরকার। নতুন বিধান অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম ইট পোড়ানোর আগেই ইট প্রস্তুতকারককে অগ্রিম কর পরিশোধ করতে হবে। এক্ষেত্রে এক সেকশন বা সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮ হাজার ঘনফুট আয়তনের ইটভাটার জন্য অগ্রিম কর নির্ধারণ করা হচ্ছে ১ লাখ টাকা, যা চলতি অর্থবছরের ৪৫ হাজার টাকার তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। দেড় সেকশন ইটভাটার ক্ষেত্রে কর হার ৭০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা হচ্ছে। একইভাবে দুই সেকশন ইটভাটার ক্ষেত্রে ৯০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা হচ্ছে। আর বর্তমানে স্বয়ংক্রিয় মেশিনভিত্তিক ভাটার জন্য নির্ধারিত অগ্রিম কর হার ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা থাকলেও, আগামী অর্থবছরে আয়তনভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাসের বাইরে থাকা অন্যান্য ইটভাটার জন্য ৩ লাখ টাকা অগ্রিম কর নির্ধারণ করা হচ্ছে। অগ্রিম কর বাড়ানোর পাশাপাশি আগামী অর্থবছরে ইটভার লাইসেন্স ইস্যু বা নবায়নের ক্ষেত্রেও কঠোর শর্ত আরোপ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূ্ত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরে নির্ধারিত অগ্রিম কর পরিশোধের চালান এবং আয়কর পরিশোধের হালনাগাদ সনদ ছাড়া কোনো ইটভাটার লাইসেন্স প্রদান বা নবায়ন করা যাবে না। এমনকি এই শর্ত উপেক্ষা করে লাইসেন্স প্রদান বা নবায়ন করলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকেও খেলাপি করদাতা হিসেবে গণ্য করা হবে। এমএএস/এমকেআর
Go to News Site