Jagonews24
দেশের হেলিকপ্টার পরিবহন খাতে নতুন করে ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এখন থেকে হেলিকপ্টার নিবন্ধন বা ফিটনেস নবায়নের আগেই চালানের মাধ্যমে সরকারকে অগ্রিম কর দিতে হবে ১০ লাখ টাকা। অন্যথায় দেশের আকাশে হেলিকপ্টার পরিচালনা করা যাবে না। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এই অগ্রিম করের কথা বলা হয়েছে। এটি কার্যকর হলে হেলিকপ্টার ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন এভিয়েশন খাতসংশ্লিষ্টরা। তারা জানান, এমনিতেই জ্বালানির উচ্চ মূল্য, যন্ত্রাংশ আমদানিতে বাড়তি কর-শুল্ক ও পরিচালন ব্যয় সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বাজেটে নতুন অগ্রিম কর আরোপ হলে চার্টার বা ভাড়া বৃদ্ধি পেতে পারে এবং ছোট অপারেটরদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখা আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে। তাই বাজেট থেকে ওই প্রস্তাব প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন তারা। সাউথ এশিয়ান এয়ারলাইনসের বহরে সাতটি এবং মেঘনা এভিয়েশনের বহরে ছয়টি হেলিকপ্টার রয়েছে/ছবি: সংগৃহীত তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্র জানিয়েছে, সরকারের রাজস্ব আদায় বাড়াতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবের পর বিষয়টি নিয়ে হেলিকপ্টার অপারেটরদের সঙ্গে সরকারের আরও আলোচনা হতে পারে। যদিও গত ৭ এপ্রিল এনবিআরের সঙ্গে এক প্রাক-বাজেট বৈঠকে আসন্ন বাজেটে চার্টার্ড বিমান ও হেলিকপ্টার পরিষেবার ওপর আরোপিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ৩০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক থেকে অব্যাহতি; সেই সঙ্গে পরিষেবা বিলের ওপর ৫ শতাংশ উৎস কর মওকুফের দাবি জানিয়েছিলেন এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এওএবি) মহাসচিব মফিজুর রহমান। এর বাইরে বিমান ও হেলিকপ্টারের খুচরা যন্ত্রাংশ এবং ইঞ্জিনের ওপর আরোপিত আমদানি শুল্ক এবং ৭ দশমিক ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছিলেন তিনি। আরও পড়ুন ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির পথে কী দাওয়াই নিয়ে আসছেন অর্থমন্ত্রী উচ্চ সিসির গাড়ির অগ্রিম কর বাড়ছে অগ্রিম কর পরিশোধের চালান দাখিল বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সূত্র জানায়, এবারের এই বাজেটে হেলিকপ্টারের নিবন্ধন বা ফিটনেস নবায়নের ক্ষেত্রে ১০ লাখ টাকা অগ্রিম কর আরোপের প্রস্তাব করেছে সরকার। রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি এবং উচ্চমূল্যের সম্পদের মালিকদের কর নেটের আওতায় আনতেই এ প্রস্তাব আনা হয়েছে বলে বাজেট সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। বাজেট অনুযায়ী, কোনো হেলিকপ্টার বা চপারের নিবন্ধন অথবা ফিটনেস নবায়নের আবেদন করার সময় ১০ লাখ টাকা অগ্রিম কর পরিশোধের চালান দাখিল করতে হবে। চালান ছাড়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিবন্ধন বা ফিটনেস নবায়ন করবে না। দেশে করপোরেট যাতায়াত, জরুরি চিকিৎসাসেবা, ভিআইপি পরিবহন ও বিভিন্ন বিশেষ কাজে হেলিকপ্টারের ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে/ছবি: সংগৃহীত বাজেটে আরও বলা হয়েছে, একাধিক বছরের জন্য নিবন্ধন বা ফিটনেস নবায়ন করা হলে প্রথম বছরের কর পরিশোধের পাশাপাশি পরবর্তী বছরগুলোর জন্য নির্ধারিত অগ্রিম কর সংশ্লিষ্ট বছরের ৩০ জুন বা তার আগে পরিশোধ করতে হবে। এছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ে অগ্রিম কর পরিশোধে ব্যর্থ হলে পরবর্তী বছরে তাকে বকেয়া অগ্রিম করের সঙ্গে ওই বছরের প্রযোজ্য অগ্রিম করও পরিশোধ করতে হবে। তবে কয়েকটি ক্ষেত্রে এ অগ্রিম কর প্রযোজ্য হবে না। এর মধ্যে রয়েছে- সরকারের মালিকানাধীন আকাশযান, বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি কূটনীতিক ও কূটনৈতিক মিশনের আকাশযান, জাতিসংঘ ও এর অঙ্গসংগঠনের ব্যবহৃত আকাশযান, বিদেশি উন্নয়ন অংশীদারদের মালিকানাধীন আকাশযান, আয়কর আইনের নির্দিষ্ট বিধান অনুযায়ী রিটার্ন দাখিল থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত করদাতা এবং এনবিআর থেকে অগ্রিম কর অব্যাহতির সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান। আরও পড়ুন দেশীয় শিল্প সুরক্ষায় বাজেটে কর-শুল্ক ছাড়ের উদ্যোগ বাড়তে পারে বাইসাইকেলের দাম বাজেট জাতীয় সংসদে পাস হলে নতুন বিধান আগামী অর্থবছর থেকে কার্যকর হবে। তবে হেলিকপ্টারের নিবন্ধন বা ফিটনেস নবায়নের সময় বছরে ১০ লাখ টাকা অগ্রিম কর আরোপের যে প্রস্তাব বাজেটে এসেছে, সে বিষয়ে এখনো এওএবি আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি। আর ওই করের প্রস্তাব এমন এক সময়ে এসেছে যখন আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে ঘন ঘন জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং বর্ধিত পরিচালন ব্যয়ের সঙ্গে বিমান চলাচল খাত লড়াই করছে। জানতে চাইলে এওএবির মহাসচিব ও নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, বাজেটের কপি হাতে পেলে বিষয়টি দেখে মন্তব্য করবেন। হেলিকপ্টার সেবা পরিচালনাকারীদের সংগঠন এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এওএবি)/ছবি: সংগৃহীত দিনে ৮০ থেকে ১২০ ফ্লাইট পরিচালনা বর্তমানে দেশে করপোরেট যাতায়াত, জরুরি চিকিৎসাসেবা, ভিআইপি পরিবহন ও বিভিন্ন বিশেষ কাজে হেলিকপ্টারের ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) অনুমোদন নিয়ে বর্তমানে প্রায় ২৫টি প্রতিষ্ঠান হেলিকপ্টার চার্টার ও অপারেশন সেবা দিচ্ছে। খাতসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে বেসরকারি খাতে ৩০ থেকে ৪০টি হেলিকপ্টার নিয়মিত পরিচালনায় রয়েছে। শীর্ষ অপারেটরদের মধ্যে আছে সাউথ এশিয়ান এয়ারলাইন্স, মেঘনা এভিয়েশন, বেক্সিমকো এভিয়েশন, ইমপ্রেস এভিয়েশন, আরঅ্যান্ডআর এভিয়েশন ও বিআইসিএল এভিয়েশন। শুধু সাউথ এশিয়ান এয়ারলাইনসের বহরেই সাতটি হেলিকপ্টার রয়েছে। আর মেঘনা এভিয়েশনের বহরে রয়েছে ছয়টি হেলিকপ্টার। আরও পড়ুন দেশে উৎপাদিত ওয়াশিং মেশিন-ওভেনের দাম কমবে, আমদানিতে বাড়বে দ্বিগুণের বেশি হচ্ছে ইটভাটার অগ্রিম কর, লাইসেন্স নবায়নে নতুন শর্ত অপারেটরদের দাবি, প্রতিদিন ৮০ থেকে ১২০টি হেলিকপ্টার ফ্লাইট পরিচালিত হয়। তবে মৌসুম, আবহাওয়া এবং চাহিদার ওপর ভিত্তি করে এ সংখ্যা ওঠানামা করে। নির্বাচনকাল, শিল্পকারখানা পরিদর্শন, পর্যটন মৌসুম কিংবা জরুরি চিকিৎসার সময় ফ্লাইট সংখ্যা আরও বেড়ে যায়। গত ১১ এপ্রিল গুলশানের স্যামসন সেন্টারে এওএবির ১৩তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় এওএবির সভাপতি ও স্কয়ার এয়ার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঞ্জন চৌধুরী বলেছিলেন, জেট ফুয়েলের দাম, হ্যাঙ্গার ভাড়া, কাস্টমস জটিলতা ও সিভিল এভিয়েশন নির্ধারিত উচ্চহারে বিভিন্ন ফি এ খাতের মালিকদের মহাসংকটে ফেলেছে। এভিয়েশন শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সিভিল এভিয়েশনসহ বিভিন্ন সংস্থাগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন। এমএমএ/একিউএফ
Go to News Site