Jagonews24
ট্যানারির বর্জ্য ব্যবহার করে তৈরি ফিড খাওয়া মুরগি ও মাছে থাকে বিষাক্ত ‘হেক্সাভ্যালেন্ট ক্রোমিয়াম’। এমন মুরগি ও মাছ খেলে মানুষের শরীরে ক্যানসার, লিভার সিরোসিস, আলসার ও কিডনি রোগের মতো জটিল স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়। বুধবার (১০ জুন) জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন এসব কথা বলেন। ট্যানারির বিষাক্ত বর্জ্য দিয়ে তৈরি মুরগি ও মাছের খাদ্য ক্যানসারসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে কি না- জানতে চান নিলোফার চৌধুরী মনি। জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘হ্যাঁ, বিষয়টি সম্পূর্ণ সত্য। বিভিন্ন গবেষণা ও প্রতিবেদন থেকে এর প্রমাণ পাওয়া যায়।’ তিনি জানান, চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় ক্রোমিয়ামসহ বিভিন্ন ভারী ধাতু ব্যবহার করা হয়। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এসব বিষাক্ত চামড়ার বর্জ্য ব্যবহার করে কম খরচে মুরগি ও মাছের খাদ্য তৈরি করে থাকেন। এ ধরনের খাদ্য খাওয়ানো মুরগির মাংস ও ডিমে বিষাক্ত ‘হেক্সাভ্যালেন্ট ক্রোমিয়াম’ জমা হয়, যা রান্নার তাপেও নষ্ট হয় না। এই মুরগি বা মাছ মানবদেহে প্রবেশ করলে তা থেকে ক্যানসার, লিভার সিরোসিস, আলসার ও কিডনি নষ্ট হওয়ার মতো মারাত্মক জটিল রোগের ঝুঁকি তৈরি হয়। সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এ স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার এরই মধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করেছে। জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষার স্বার্থে ঢাকার হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি শিল্প সাভারের হেমায়েতপুরে অবস্থিত চামড়া শিল্পনগরীতে স্থানান্তর করা হয়েছে। ২০১৭ সালে হাইকোর্টের নির্দেশের পর হাজারীবাগের ট্যানারিগুলোর গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে স্থানান্তর কার্যকর করা হয়। মন্ত্রী বলেন, সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে একটি কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে চামড়া শিল্পের রাসায়নিক বর্জ্য পরিশোধনের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে তা পরিবেশে ছড়িয়ে না পড়ে বা পোলট্রি ফিড তৈরিতে অবৈধভাবে ব্যবহার করা না যায়। এছাড়া হাজারীবাগ ও আশপাশের এলাকায় ট্যানারির বর্জ্য ব্যবহার করে মুরগি ও মাছের খাদ্য উৎপাদনকারী অবৈধ কারখানার বিরুদ্ধে র্যাব ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালত নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করেছে বলেও জানান তিনি। মন্ত্রী জানান, এসব অভিযানে অনেক কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ট্যানারি বর্জ্য থেকে তৈরি পোলট্রি ফিডের ক্যানসারের ঝুঁকি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত সত্য। এই স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে ট্যানারি স্থানান্তর ও দূষণ রোধে এরই মধ্যেই দৃশ্যমান পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হয়েছে। চিকিৎসাকর্মীর শূন্যপদ স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বর্তমানে দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকের অনুমোদিত ৪১টি হাজার ৮০৬টি পদের মধ্যে শূন্য নয় হাজার ৪০৭টি। নার্সের অনুমোদিত ৪৯ হাজার ৫০১টি পদের মধ্যে শূন্য পাঁচ হাজার ৩২টি এবং অন্য কর্মচারীর অনুমোদিত ২৬ হাজার ৫৪৪টি পদের মধ্যে আট হাজার ৭৮৪টি শূন্য। যশোর-৪ আসনের গোলাম রসুলের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসকের ১৩ হাজার ২১১টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন সাত হাজার ৪২৯ জন। পদশূন্য পাঁচ হাজার ৭৮২টি। নার্সের ১৩ হাজার ৮০৯টি পদের মধ্যে ১২ হাজার ১৪৬ জন কর্মরত আছেন। শূন্য পদ এক হাজার ৬৬৩টি। অন্যান্য কর্মচারীর তিন হাজার ১৮৬টি পদের বিপরীতে কর্মরত দুই হাজার ১২০ জন। শূন্য এক হাজার ৬৬টি। নিলোফার চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও জানান, বর্তমানে সারাদেশে ১৪ হাজার ৪৬০টি কমিউনিটি ক্লিনিক চালু আছে। প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিকে বছরে দুই লাখ ৪৭ হাজার ৯০০ টাকার ওষুধ সরবরাহ করা হয়। এমওএস/একিউএফ
Go to News Site