Somoy TV
যশোর জেলায় গত ছয় মাসে এইচআইভি (এইডস) আক্রান্ত হয়ে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে জেলায় নতুন করে আরও ৩৫ জনের শরীরে এই মরণব্যাধির অস্তিত্ব শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে বড় একটি অংশই প্রবাসফেরত ব্যক্তি এবং স্থানীয় বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থী।বুধবার (১০ জুন) দুপুরে যশোর জেনারেল হাসপাতালের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘এইচআইভি, মানবাধিকার ও নৈতিক স্বাস্থ্য সাংবাদিকতা’ বিষয়ক এক ওরিয়েন্টেশন সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। জেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের নিয়ে এই সভার আয়োজন করা হয়। ওরিয়েন্টেশন সভা শেষে যশোর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আহসান কবির বাপ্পি জানান, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত মরণব্যাধি এইডসে নতুন শনাক্ত হওয়া ৩৫ জনের মধ্যে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৮ জন বিভিন্ন দেশ থেকে আসা প্রবাসফেরত নাগরিক এবং ৫ জন যশোরের বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থী। এছাড়া সমকামী ১০ জন এবং অন্যান্য সাধারণ মানুষ রয়েছেন ৬ জন। তিনি আরও জানান, এই সময়ের মধ্যে ১ হাজার ২০০-এর বেশি ব্যক্তির রক্ত পরীক্ষা করা হয়েছে। আক্রান্তদের সবার বয়স ২৫ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। ডা. আহসান কবির বাপ্পি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর চেয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আক্রান্তের হার দিন দিন বাড়ছে। এখনই যথাযথ কাউন্সেলিং এবং সচেতনতা বৃদ্ধি না করলে এই সংক্রমণের মাত্রা আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’ আরও পড়ুন: কুমিল্লায় ৫ মাসে এইডসে ৭ মৃত্যু, ঝুঁকিতে সমকামী ও যৌনকর্মীরা ওরিয়েন্টেশনে জানানো হয়, তরুণ প্রজন্ম ও প্রবাসীদের মধ্যে সংক্রমণের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশেষ নজরদারি প্রয়োজন। সঠিক সময়ে পরীক্ষা ও নিয়মিত চিকিৎসার মাধ্যমে এই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রেখে স্বাভাবিক জীবনযাপন সম্ভব বলে সভায় উল্লেখ করা হয়। সভায় আলোচকরা বলেন, এইচআইভি আক্রান্তদের মানবাধিকার রক্ষা এবং নৈতিকতা বজায় রেখে স্বাস্থ্য সাংবাদিকতা করা এখন সময়ের দাবি। আক্রান্তদের প্রতি সামাজিক বৈষম্য দূর করতে এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তির পরিচয় গোপন রেখে তথ্য প্রচারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা। ডাক্তার এ কে এম রাফিদ হোসেনের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত এই ওরিয়েন্টেশনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. হাবিবা সুলতানা ফোয়ারা, এইচআইভি প্রোগ্রামের কো-অর্ডিনেটর ডা. কানিজ ফাতেমা অ্যানিসহ হাসপাতালের অন্যান্য চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা।
Go to News Site