Somoy TV
মিয়ানমারের বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুনে কর্মরত একজন মার্কিন কূটনীতিককে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় একজন থাই নারীকে আটক করেছে পুলিশ বলে কূটনৈতিক মহলের একাধিক সূত্র জানিয়েছে। খবর এপির।মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, ইয়াঙ্গুনে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে কর্মরত যুক্তরাষ্ট্র সরকারের একজন কর্মকর্তা মারা গেছেন। তবে ঘটনাটি সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি তারা। এক ই-মেইল বার্তায় মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর জানায়, ‘পরিবার ও স্বজনদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি সম্মান জানিয়ে এ মুহূর্তে আমাদের কাছে দেওয়ার মতো আর কোনো তথ্য নেই।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মিয়ানমারে কর্মরত কূটনৈতিক সম্প্রদায়ের তিনজন সদস্য জানিয়েছেন, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে ইয়াঙ্গুনের সাকুরা রেসিডেন্স অ্যান্ড হোটেলে ওই কর্মকর্তার মরদেহ পাওয়া যায়। দীর্ঘমেয়াদি আবাসন সুবিধাসম্পন্ন এই হোটেলটি কূটনীতিক, ব্যবসায়ী এবং আন্তর্জাতিক দর্শনার্থীদের মধ্যে জনপ্রিয়। এটি মার্কিন দূতাবাস থেকে প্রায় ১.৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। আরও পড়ুন: জ্বালানি নিরাপত্তা ও পারমাণবিক বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতা বাড়াবে মালয়েশিয়া-জাপান সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, পুলিশ ঘটনাটিকে সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত করছে এবং এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজন থাই নারীকে হেফাজতে নিয়েছে। ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নেত্রী অং সান সু চি-কে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে মিয়ানমার ব্যাপক সংঘাতের মধ্যে রয়েছে। দেশটির সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী ও গণতন্ত্রপন্থী বাহিনী লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষ সাধারণত গণমাধ্যমকে খুব কম তথ্য প্রদান করে। যে পুলিশ স্টেশনটি সাকুরা হোটেল এলাকার দায়িত্বে রয়েছে, সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাব দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। অন্যদিকে সাকুরা রেসিডেন্স অ্যান্ড হোটেলের ব্যবস্থাপকও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। আরও পড়ুন: শি’র উত্তর কোরিয়া সফর: বন্ধুত্বের উচ্ছ্বাসের আড়ালে ‘বড় বার্তা’ এছাড়া ইয়াঙ্গুনে অবস্থিত থাই দূতাবাস এবং থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও আটক থাই নারীকে কনস্যুলার সহায়তা দেওয়া হয়েছে কি না, কিংবা তদন্ত সংক্রান্ত অন্য কোনো তথ্য প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ঘটনার তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে এবং এখন পর্যন্ত মার্কিন, মিয়ানমার বা থাই কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত্যুর কারণ বা সন্দেহভাজনের পরিচয় প্রকাশ করেনি।
Go to News Site