Jagonews24
আপনি যদি ধরে ফেলেন আপনার জীবনসঙ্গী আপনার সঙ্গে প্রতারণা করছে, কারো সঙ্গে তার রোমান্টিক সম্পর্ক আছে, তাহলে নিশ্চিতভাবেই আপনি খুব দুঃখিত হবেন, শকড হবেন। আপনার আবেগ চরম পর্যায়ে থাকবে। এই অবস্থায় নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করুন। ইস্তেগফার পড়ুন। রাগের মাথায় কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন না। একটু সময় নিন, ধৈর্য ধরুন। এরপর নিজেকে কিছু প্রশ্ন করতে হবে। তারা ঠিক কী করেছে? প্রতারণার মাত্রাটি কী? কারণ সব প্রতারণা সমান নয়। কারো সাথে মেসেজ আদান-প্রদান করা আর নিয়মিত শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হওয়ার মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে। আপনার কাছে যে পর্যায়ের প্রতারণার প্রমাণ আছে তাই সত্য হিসেবে গ্রহণ করুন। আপনার সঙ্গীকে যতটুকু সম্ভব \'বেনিফিট অফ ডাউট\' দিন। যদি বিষয়টি প্রমাণিত হয়, তবে ভেবে দেখুন আপনার জীবনসঙ্গী যিনি প্রতারণা করেছেন, তিনি ব্যক্তি হিসেবে কেমন? তিনি কি অন্যান্য ক্ষেত্রে একজন ভালো মানুষ? তিনি কি আল্লাহর হক এবং আপনার অধিকার আদায় করেন? যদি তিনি অন্যান্য ক্ষেত্রে ভালো মানুষ হন এবং এটি একটি ভুল হয়ে থাকে, তবে বিষয়টি আল্লাহর রহমত হিসেবে দেখুন। হয়তো আল্লাহ তার পাপটি প্রকাশ করে দিয়েছেন যাতে তিনি তা বন্ধ করে তওবা করতে পারেন। যদি তিনি ধরা না পড়তেন, তবে হয়তো পাপটি চলতেই থাকত। এ রকম ক্ষেত্রে আমি আপনাদের সংসার ভেঙে ফেলার বা ডিভোর্স দেওয়ার পরামর্শ দেব না। অনেক লোক আপনাকে বলবে, \'এটি মেনে নেওয়া যায় না, এই বিয়ে ভেঙে দাও\'। আমি বলছি, ভালো মানুষও ভুল করে। তাই দ্বিতীয় সুযোগ দেওয়ার কথা ভাবুন। আপনার বন্ধুরা আপনাকে ভুল পরামর্শ দিয়ে বিদায় নেবে, কিছুদিন পর হয়তো আপনার সেই সঙ্গী অন্য কাউকে বিয়ে করে সুখে থাকবে, আর আপনি একা কষ্ট পাবেন। তাই চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিন। তবে যদি সঙ্গী যদি স্বভাবগতভাবেই প্রতারক হয়, যদি দেখা যায় সে আপনার হক সঠিকভাবে আদায় করে না, abusive বা অত্যাচারী—তখন হয়তো আল্লাহর ইশারা হিসেবে আপনার এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসাই ভালো। যারা নিজেদের জীবনসঙ্গীর সঙ্গে প্রতারণা করেছেন, তাদের বলছি—কখনোই নিজের ভুলের জন্য আপনার সঙ্গীকে দোষারোপ করবেন না। অনেকে বলেন, \'তুমি আমাকে ভালোবাসা দাওনি বা সময় দাওনি\', তাই আমি এমন করেছি। এগুলো পাপের কোনো অজুহাত হতে পারে না। ক্ষমা প্রার্থনার ক্ষেত্রে নিয়ম হলো: এক. আল্লাহর কাছে তওবা করুন। দুই. নিজে থেকেই খোলা মনে জীবনসঙ্গীর কাছে ক্ষমা চান। অন্য কাউকে মাধ্যম বানাবেন না। সত্যিকারের ক্ষমা অন্তর থেকে আসে। আমি এমন অনেক দম্পতিকে চিনি যারা ক্ষমা করে দেওয়ার পর তাদের সম্পর্ক আগের চেয়েও মজবুত হয়েছে। আর পরিবারের সদস্যদের বলছি, আপনার সন্তান বা ভাই/বোন যদি তার সঙ্গীকে ক্ষমা করে সংসার টিকিয়ে রাখতে চায়, তবে তাকে সমর্থন করুন। এসব সমস্যায় সব সময় বন্ধুদের কথা শুনবেন না, কারণ তারা পুরো বিষয়টি জানে না। বরং এমন কাউকে জিজ্ঞেস করুন যাকে আপনি শ্রদ্ধা করেন। তবে বিষয়টি গোপন রাখা খুব জরুরি। সোশ্যাল মিডিয়ায় বা পুরো গ্রামে ঘোষণা দেবেন না। এতে নিজেরই ক্ষতি হয়। যোগাযোগ সহজ হওয়ায় এসব সমস্যা বাড়ছে। আমি কিছুতেই অন্যায়কারীর পক্ষ নেব না, আমি সব সময় ভুক্তভোগীর পক্ষে। কিন্তু ভুক্তভোগীকে এমন বুদ্ধিদীপ্ত পরামর্শ দিতে চাই যাতে তিনি কোনো আবেগপ্রসূত সিদ্ধান্তের কারণে নিজের আরও বড় ক্ষতি না করে ফেলেন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার তওফিক দান করুন! লেখক: ডক্টর মুফতি ইসমাইল ইবনে মুসা মেন্ক, যিনি মুফতি মেন্ক নামে বেশি পরিচিত, একজন মুসলিম শিক্ষাবিদ, ইসলাম প্রচারক ও বক্তা। তিনি বর্তমানে জিম্বাবুয়ের প্রধান মুফতি। ২০১৩, ২০১৪ এবং ২০১৭ সালে জর্ডানের রয়্যাল আল আল-বাইত ইনস্টিটিউট ফর ইসলামিক থট তাকে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ৫০০ মুসলমানের অন্যতম হিসাবে ঘোষণা করে। সূত্র: লেখাটি মুফতি মেন্কের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত তার \"Caught your spouse cheating? What to do?\" শীর্ষক বক্তব্য অবলম্বনে রচিত। ওএফএফ
Go to News Site