Jagonews24
দেশীয় বড় পোশাক ব্র্যান্ডের জার্সি বিক্রিতে আগ্রহ নেই অনলাইনে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে জার্সি ফুটপাতে বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১ হাজার টাকায় অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ১১৫০ টাকায় সারাবিশ্ব এখন বিশ্বকাপ ফুটবল উন্মাদনায় কাঁপছে। সেই উন্মাদনায় এগিয়ে বাংলাদেশও। পথে-ঘাটে অনেকের গায়েই উঠেছে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার জার্সি। গ্রাম-গঞ্জ, পাড়া-মহল্লায়ও বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন দেশের জার্সি। তবে জার্সি বিক্রিতে এবার আগ্রহ নেই দেশের নামি-দামি পোশাক ব্র্যান্ডের। অনলাইন ও ফুটপাতে চলছে জমজমাট বেচাকেনা। মঙ্গলবার (৯ জুন) রাজধানীর বেইলি রোডের একাধিক ব্র্যান্ডের দোকান ও গুলিস্তানসহ বিভিন্ন মার্কেটে খোঁজ নিয়ে এমন তথ্য জানা যায়। বেইলি রোডে ঘুরে দেখা যায়, পোশাক ব্র্যান্ড ইনফিনিটি, ইয়েলো, জেন্টেল পার্ক, লুবনান, টুয়েলভ ও রাইজ এবার এখন পর্যন্ত জার্সি বিক্রি করছে না। বেইলি রোডে একমাত্র আর্টিসানে জার্সি বিক্রি হতে দেখা গেছে। আর্টিসানে এবার বিভিন্ন দেশের জার্সি ১ হাজার ৫৯৫ টাকা, পলো ১ হাজার ৮৯৫ টাকা ও টি-শার্ট ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পলো ও টি-শার্ট বিভিন্ন দেশের জার্সির রঙে তৈরি করা হয়েছে। আরও পড়ুন পেলের ১৯৫৮ বিশ্বকাপ ফাইনালের জার্সি নিলামে, মূল্য ৭৪ কোটি টাকা! জানতে চাইলে আর্টিসানের বেইলি রোড শাখার ব্রাঞ্চ ম্যানেজার দীপ্ত দাশ জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা প্রায় এক সপ্তাহ আগে জার্সি উঠিয়েছি। এবার আমাদের জার্সিতে অরিজিনাল জলছাপ দেওয়া রয়েছে। আমরা প্রায় অরিজিনালের মতো করতে চেয়েছি। আর জার্সিগুলো মেড ইন থাইল্যান্ডের।’ ব্র্যান্ডশপে জার্সি এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমাদের ব্রাঞ্চ থেকে জার্সি ভালোই যাচ্ছে। প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০টি করে জার্সি বিক্রি হচ্ছে। প্রায় সব শ্রেণির ক্রেতারাই জার্সি কিনছেন। আশা করি আগামী কয়েকদিনে আমাদের জার্সির বিক্রি আরও বাড়বে।’ অন্য পোশাক ব্র্যান্ডের মতো দেশীয় পোশাক ব্র্যান্ড বিশ্বরঙও এবার জার্সি করেনি। এ বিষয়ে বিশ্বরঙ-এর কর্ণধার বিপ্লব সাহা জাগো নিউজকে বলেন, ‘এবার জার্সি করার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু করি করি করেও করা হয়ে ওঠেনি। কারণ জার্সির ডিজাইন পরিবর্তন হয়। আবার এটি মৌসুমি ব্যবসা। ব্যবসা-বাণিজ্যও এখন ভালো নেই। সন্ধ্যায় দোকান বন্ধ করতে হয়। সব মিলিয়ে এবার জার্সি করা হয়নি।’ জানতে চাইলে ফ্যাশন হাউজ সাদাকালোর অন্যতম উদ্যোক্তা ও ফ্যাশন এন্টারপ্রেনার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এফইএবি) সভাপতি আজহারুল হক আজাদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘মার্কেট তো অনেকটা আনপ্রেডিক্টেবল জায়গায় চলে গেছে। জার্সি করতে অনেক বিনিয়োগের প্রয়োজন। আবার মার্কেট সন্ধ্যা ৭টায় বন্ধ হয়ে যায়। প্রচণ্ড গরমে দিনের বেলায় মানুষ মার্কেটে যাচ্ছে না, সন্ধ্যায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এসব কারণে ফ্যাশন হাউজগুলো এ রিস্কটি নেয়নি।’ ব্র্যান্ডশপে জার্সি এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আবার ফুটপাতে ১০০ থেকে ২০০ টাকায় জার্সি পাওয়া যাচ্ছে। মানুষ আগে যেমন ব্র্যান্ডশপ থেকে জার্সি কিনতো, কিন্তু এখন যেহেতু ফুটপাতে পাওয়া যাচ্ছে এবং এগুলো আসলে ওয়ান-টাইম ইউজের, এসব কারণেও ব্র্যান্ডগুলো এখন আগ্রহ দেখাচ্ছে না।’ অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে জার্সি অনলাইনে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে বিক্রি হচ্ছে জার্সি। বিভিন্ন পেজে ৪শ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে জার্সি। জনপ্রিয় অনলাইন প্ল্যাটফর্ম দারাজ ও অথবায় জার্সি বিক্রি হতে দেখা গেছে। দারাজে ১১শ থেকে ১৫শ টাকায় ও অথবায় বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ১ হাজার ১৫০ টাকায়। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ‘অথবা’। জার্সি বিক্রিতে প্রতিষ্ঠানটি এবার বেশ সাড়া ফেলেছে। জানতে চাইলে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন বিভাগের অ্যাক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর খন্দকার তাসফিন আলম জাগো নিউজকে বলেন, ‘অথবায় জার্সি বিক্রি ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। আমাদের প্ল্যাটফর্মে ২২০ টাকা থেকে ১ হাজার ১৫০ টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন দামের জার্সি পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে ৩শ থেকে ৪৫০ টাকার জার্সিগুলো সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে। ফলে এ মূল্যসীমার জার্সিই বর্তমানে বিক্রির প্রধান চালিকাশক্তি।’ ফুটপাতে জমে উঠেছে বেচাকেনাতিনি আরও বলেন, ‘ঢাকার ভেতরে এক থেকে তিন দিনের মধ্যে এবং ঢাকার বাইরে তিন থেকে পাঁচদিনের মধ্যে পণ্য পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। দ্রুত ডেলিভারি সেবা ক্রেতাদের আস্থা ও সন্তুষ্টি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সব মিলিয়ে অথবার জার্সি বিক্রি শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির ধারায় রয়েছে। আগামীতে বিক্রি আরও বাড়বে বলে আমরা আশা করছি।’ আরও পড়ুন দুয়ারে বিশ্বকাপ ফুটবল / জমে উঠছে জার্সি বেচা-কেনা, চাহিদার শীর্ষে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল বিশ্বকাপ উপলক্ষে জার্সি বিক্রি শুরু করেছে ফুডপ্যান্ডাও। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় এক ঘণ্টার মধ্যে জার্সি সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি ৫শ টাকা থেকে ১৫শ টাকার মধ্যে বেশকিছু ব্র্যান্ডের জার্সি মাত্র এক ঘণ্টায় গুলশান, উত্তরা, মিরপুর, খিলগাঁও, ধানমন্ডি ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের বাসা এবং অফিসে পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। এ প্রসঙ্গে ফুডপ্যান্ডা বাংলাদেশের কিউ-কমার্সের পরিচালক মোহাম্মদ তাবরেজ খান বলেন, ‘স্বাচ্ছন্দ্য মানে এখন আর শুধু খাবার ডেলিভারিই নয়, বরং প্রয়োজনীয় জিনিস সঠিক সময়ে হাতে পাওয়া। গ্রোসারি পণ্য থেকে শুরু করে বিশ্বকাপের জার্সি- ক্রেতাদের প্রত্যাশা সব সময়ই দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন ডেলিভারি।’ ফুটপাতে বিক্রি রমরমা বিভিন্ন ফুটপাত ও নন-ব্র্যান্ডের দোকানগুলোতে জার্সি বিক্রি বেশ রমরমা। রাজধানীর গুলিস্তান এলাকার ফুটপাত ও দেশের অন্যতম বড় ক্রীড়াসামগ্রীর বাজার সমবায় টুইন টাওয়ার মার্কেটে জার্সি বিক্রির ধুম পড়েছে। এসব এলাকায় কেউ কিনছেন প্রিয় দলের জার্সি, কেউ পতাকা। তবে পতাকার চেয়ে এবার জার্সির চাহিদাই বেশি। আর ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার জার্সিই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে। ফুটপাত ও বিভিন্ন দোকানে ১৫০ থেকে ১ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে জার্সি। ফুটপাতে জমে উঠেছে বেচাকেনাগুলিস্তানের ফুটপাতের দোকানি মো. হানিফ সুমন জাগো নিউজকে বলেন, ‘বাচ্চাদের জার্সি ২৫০ টাকা ও বড়দের ৩শ থেকে ৫শ টাকায় বিক্রি করছি। দিনে আনুমানিক এক হাজার থেকে দেড় হাজার জার্সি বিক্রি করছি।’ তিনি বলেন, \'এবার ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার জার্সি বেশি বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি পর্তুগালের জার্সির বিক্রিও ভালো। পর্তুগালের জার্সির স্টক এরই মধ্যে শেষ। এই লম্বা সিরিয়ালে যখন ঝাঁক পড়ে (বেশি মানুষ), তখন সিরিয়ালে অপেক্ষা করে জার্সি কিনতে হয়। এমনও সময় যায় যখন কাস্টমারের পেছনে কাস্টমার দাঁড়িয়ে থাকেন, তাদের অপেক্ষা করতে হয়।\' আরও পড়ুন বরিশালে ছাত্রলীগ নেতার হাতে বিমানবন্দর নিরাপত্তাকর্মী লাঞ্ছিত ডন প্লাজার নিচের আরেক ফুটপাতের দোকানি মো. মহসিন বলেন, ‘বিক্রি বেশ ভালো। এখন তো ফুটবলের মৌসুম। জার্সি বিক্রির সময় এখন। অনেক বেচাকেনা হচ্ছে।’ সামসুল হক নামে আরেক ফুটপাতের দোকানি বলেন, ‘অন্যবারের তুলনায় বিক্রি কিছুটা কম। এবার দোকান বেড়েছে, হাজার হাজার দোকান।’ শাকিল আহমেদ নামের আরেক বিক্রেতা বলেন, ‘ভালোই বিক্রি হচ্ছে। দিনে ১০০ থেকে ১৫০ পিস বিক্রি করছি। আমরা ১৫০ টাকা করে জার্সি বিক্রি করছি। এটি ম্যাশ কাপড়ের জার্সি।’ জার্সির পাশাপাশি বিক্রি হচ্ছে পতাকা গুলিস্তানের ফুটপাত থেকে ব্রাজিলে সমর্থক শাকিল ২০০ টাকা দিয়ে জার্সি কিনেছেন। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, জার্সির কোয়ালিটি মোটামুটি ভালোই। বিশ্বকাপ তো একবারই আসে। আপাতত আমারটি কিনছি। পরিবারের সবার জন্য জার্সি কিনবো। ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে কাজে ঢাকায় এসেছেন আর্জেন্টিনার সমর্থক রঞ্জিত। তিনি আর্জেন্টিনার জার্সি কিনছিলেন। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, ‘শুনেছি গুলিস্তানের ফুটপাতে কম দামে জার্সি বিক্রি হয়। তাই কাজ শেষে এখানে এসেছিলাম। পাঁচটি জার্সি কিনেছি ৯শ টাকায়।’ গুলিস্তানের ফুটপাতে পতাকাও বিক্রি হচ্ছে হরদম। ৩ ফুটের পতাকা ১০০ টাকা, ৫ ফুট ১৫০ টাকা ও ১০ ফুটের পতাকা ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আবার কোনো কোনো দোকানে ৫ ফুটের পতাকা ২০০ টাকা ও ১০ ফুটের পতাকা ৬০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। পতাকা ও জার্সি বিক্রি দেখে মনে হবে, এ যেন ব্রাজিল আর্জেন্টিনার শহর। ইএইচটি/এএসএ/এমএফএ
Go to News Site