Jagonews24
রাজশাহী কলেজ ক্যাম্পাসে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ও গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তর পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ পাঠাগারের একটি গাড়ি জব্দ করেছে মহানগর ছাত্রদল। এ সময় গাড়িটিতে থাকা শেখ মুজিবুর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে রচিত ৩০০ বই জব্দ করা হয়েছে। বুধবার (১০ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহী কলেজের নজরুল চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাকিন রাইহান রবীন, সদস্যসচিব ইমদাদুল হক লিমন এবং সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খালিদ বিন ওয়ালিদ (আবির)। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশিকুজ্জামান প্রীতম, ছাত্রনেতা জুবায়ের রশিদ, জাহিদ হাসানসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মীরা। রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাকিন রাইহান রবীন বলেন, ‘ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির সঙ্গে ছোটোবেলার আবেগ জড়িয়ে আছে। আমরা ছোটোবেলায় এখান থেকে নানা ধরনের গল্পের বই পড়তাম। সেই আগ্রহ থেকেই বইগুলো দেখতে এসেছি। কিন্তু এখানে এমন ব্যক্তিদের নিয়ে বিপুল বই পাওয়া যাচ্ছে, যাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ১৭ বছর সাধারণ মানুষের স্বাধীনতা হরণের অভিযোগ রয়েছে।’ মহানগর ছাত্রদলের সদস্যসচিব ইমদাদুল হক লিমন বলেন, ‘আমরা বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরির বইগুলো পর্যালোচনা করতে গিয়ে লক্ষ্য করি, এখানে দায়িত্বপ্রাপ্তরা দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে বিপুল বই সংরক্ষণ করে রেখেছেন। এসব বইয়ের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তাদের ইতিহাস ও আদর্শ ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, ‘২০২৪ সালের আন্দোলনের পরও দেশের অন্যতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পূর্বের রাজনৈতিক আদর্শ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। ভ্রাম্যমাণ পাঠাগারে থাকা বইগুলোর ৫০ শতাংশেরও বেশি বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনাকে নিয়ে রচিত।’ রাজশাহী কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক খালিদ বিন ওয়ালিদ (আবির) বলেন, ‘রাজশাহী কলেজে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি পরিদর্শনকালে লক্ষ্য করি যে, স্বৈরাচারী আমলে রচিত ও প্রচারিত বিকৃত ইতিহাসভিত্তিক বহু বই এখনো সেখানে সংরক্ষিত ও প্রদর্শিত হচ্ছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, অন্য বইয়ের তুলনায় এসব বইয়ের সংখ্যাই বেশি।’ অন্যদিকে ভ্রাম্যমাণ গ্রন্থাগারের ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘গ্রন্থাগারে বিভিন্ন ধরনের বইয়ের সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রকাশিত কিছু বইও ছিল, যা অনাকাঙ্ক্ষিত। ইতোমধ্যে লিখিতভাবে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে যে, এসব বই আর প্রদর্শন করা হবে না। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বইগুলো সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সংরক্ষণের উপযুক্ত স্থান না থাকায় সেগুলো গাড়িতে আড়াল করে রাখা হয়েছিল, যাতে পাঠকদের নজরে না আসে। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিষয়টি তাদের নজরে এনেছেন এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন।’ মনির হোসেন মাহিন/এএইচ/জেআইএম
Go to News Site