Jagonews24
পাবনা সদরে রাঘবপুর গ্রামে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী রিয়া খাতুনকে হত্যাকাণ্ডের পরই ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর কারণে আগুনে পুড়ে প্রাণ হারায় আরও ৩ যুবক। মূল আসামিকে গ্রেফতারের পরও কেন এ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন উঠেছে। নিহত কিশোরীর পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়া ভিন্ন খাতে নিতে এবং লুটপাটের উদ্দেশ্যে কোনো তৃতীয় পক্ষ পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটাতে পারে। দগ্ধ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিন যুবকের মৃত্যুর পর গ্রামজুড়ে চরম আতঙ্ক ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়রা জানায়, ২ জুন রিয়াকে হত্যার পর বস্তাবন্দি করে পদ্মায় ফেলে দেয় কথিত প্রেমিক নাইম হোসেন। পরদিন ৩ জুন তার মরদেহ উদ্ধারের পর ৪ জুন বিকেলে দাফন শেষে মূল অভিযুক্ত নাঈম হোসেনের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ সময় ঘরে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হলে আগুন নেভাতে আসা প্রতিবেশী ও উৎসুক জনতাসহ পাঁচজন গুরুতর দগ্ধ হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (৮ জুন) সুমন শেখ এবং মঙ্গলবার (৯ জুন) সাব্বির ও সাবু নামের মৃত্যু হয়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে গ্রামের কয়েকজন জানান, রিয়া হত্যাকাণ্ডের পর এলাকা উত্তপ্ত থাকলেও পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে ছিলো। কিন্তু দাফনের সময় কিছু সুযোগসন্ধানী মানুষ অভিযুক্তের বাড়িতে হামলা চালায়। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বাড়িঘর লুটপাট করা। বাড়িতে আগুন দেওয়ার পরই সিলিন্ডার বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন নেভাতে যাওয়ায় কিছু সাধারণ মানুষ দগ্ধ হয়। এক্ষেত্রে নিহত যুবকদের স্বজনদের একাংশের অভিযোগ, এলাকায় চরম উত্তেজনা ও রিয়ার সহপাঠীদের মহাসড়ক অবরোধের পরও পুলিশ অভিযুক্তের বাড়ির নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়নি। প্রশাসনের এই গাফিলতির সুযোগই নিয়েছে ওই চক্র। রিয়ার বড় ভাই খালিদ হাসান বলেন, ‘পুলিশ দ্রুত প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে, সে নিজের মুখে দায়ও স্বীকার করেছে। নাঈমের বাড়িতে আগুন দেওয়ার কোনো কারণ নেই। আমরা শুধু বোনের হত্যার বিচার চাই। আমাদের পরিবার অগ্নিসংযোগ ও হামলায় জড়িত নয়।’ রিয়ার বোন প্রিয়া খাতুন উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘বোনকে হারিয়ে আমরা যেখানে পাগলপ্রায়, সেখানে আমাদের স্বজনরা কারও বাড়িতে হামলা-ভাঙচুরের কথা চিন্তাও করবে না। দাফনের সময়ে এ আগুন দেওয়ার পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।’ নিহত সুমন শেখের ভাতিজা শাকিল শেখ জানান, ‘আমার চাচা রিয়ার দাফন শেষে ফিরছিলেন। হঠাৎ আগুন দেখে নেভাতে গিয়ে তাকে মরতে হলো। কারা আগুন দিয়েছে কিছুই জানি না।’ নিহত সাবুর চাচা সবুজ শেখ বলেন, ‘রিয়ার মৃত্যুতে তার স্কুলের সহপাঠীরা মহাসড়ক অবরোধ করেছিল, উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এরপরও পুলিশ কেন ব্যবস্থা নিলো না, সহিংসতা এড়াতে পারলো না।’ ওই এলাকায় সে সময় সিভিল ও পোশাকধারী পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন ছিলো জানিয়ে পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) রেজিনূর রহমান বলেন, ‘রিয়া হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি গ্রেফতার এবং স্বীকারোক্তি দেওয়ার পরও অগ্নিসংযোগের ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত। নিহত সুমন শেখের ভাই উকিল শেখ বাদী হয়ে মঙ্গলবার (৯ জুন) অজ্ঞাতনামাদের নামে মামলা করেছেন। অপরাধীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।’ আলমগীর হোসাইন নাবিল/এএইচ/জেআইএম
Go to News Site