Somoy TV
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কিশোর গ্যাং লিডার আকাশ। সাতবার গ্রেফতার হয়েও আট মাস আগে জামিনে বের হয় ১২ মামলার এই আসামি। চাপাতি-সামুরাই দিয়ে কুপিয়ে ছিনতাই করে আবারও আতঙ্ক ছড়ায় মোহাম্মদপুরে। ধরন পাল্টে এবার ছিনতাই করে অন্য এলাকায় গিয়ে গা ঢাকা দেয় সে। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। সাভারে অভিযান চালিয়ে দুর্ধর্ষ এই ছিনতাইকারীকে দুই সহযোগীসহ গ্রেফতার করেছে পুলিশ।রাজধানীর মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা মডেল টাউনের এভিনিউ-২। গত ৪ মে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আয়েশা টেলিকমের কর্মী হৃদয় দোকান খুলতে আসেন। এর আগে চা খেতে গেলে অটোরিকশায় এসে দুজন তার সঙ্গে থাকা ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। বাধা দিলে আঘাত করে চাপাতি দিয়ে। ব্যাগ ছিনিয়ে অটোরিকশায় পালিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা। কিছু বুঝে উঠতে না পেরে রিকশার পেছন পেছন ছুটতে থাকেন হৃদয়। পরে থানায় অভিযোগ করেন দোকানের ২ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে তারা। এদিকে, ১৭ মে বিকেলে পার্শ্ববর্তী নবীনগর হাউজিংয়ে একটি কুরিয়ারের গাড়ি আটকে দেয় ছিনতাইকারীরা। এসময় কুরিয়ার কর্মীর সঙ্গে থাকা ২৫ হাজার টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়া হয়। পুরো দৃশ্য ধরা পড়ে গাড়ির ক্যামেরায়। চন্দ্রিমা মডেল টাউন ও বসিলা গার্ডেন সিটির সংযোগস্থল হাক্কারপাড় ব্রিজ। সহজে বসিলায় যাওয়ার জন্য এ বাশের ব্রিজ ব্যবহার করতে গিয়ে প্রায়ই বিপদে পড়েন এখানকার বাসিন্দারা। ছিনতাইয়ের আরেক হটস্পট তুরাগ নদীর ওয়াকওয়ে গত মাসে একাধিক ছিনতাইয়ের সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে কাজ করে বসিলা পুলিশ ক্যাম্প। ফুটেজ দেখে পুলিশ জানতে পারে এসব দুর্ধর্ষ ছিনতাইয়ে হাত রয়েছে আকাশ গ্রুপের। আকাশ ছাড়াও শনাক্ত হয় মাউরা সোহেল, কোবরা, ইউনূস, রবিন, উদয়, আরাফাতসহ বেশ কয়েকজনকে। শুরু হয় অভিযান। আরও পড়ুন: প্রবাসীর ছেলেকে অপহরণ: ৫ মাস পর চক্রের ২ সদস্য গ্রেফতার অভিযানের মুখে এলাকা ছাড়ে আকাশ। পরে খবর আসে আকাশ দলবলসহ আশুলিয়ায় আত্মগোপনে রয়েছে। পুলিশের আঅভিযানে সেখানে আকাশ এবং তার সহযোগী রবিন ও আরাফাত গ্রেফতার হয়। পুলিশ জানায়, আকাশের নামে ডাকাতি, ছিনতাই, মাদকসহ ১২টি মামলা রয়েছে। একাধিকবার গ্রেফতারও হয়েছে সে। ডিএমপির মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘আকাশ গ্রুপের বিরুদ্ধে প্রতিদিন আমরা অভিযান চালিয়ে আসছি। এ কারণে তারা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে এক এলাকায় ঘটনা ঘটিয়ে আরেক এলাকায় চলে যায়। ততবে তাদের পালিয়ে থাকার সুযোগ নাই। আমাদের কলাকৌশলের মাধ্যমে বাকিদেরও আইনের আওতায় নিয়ে আসবো।’
Go to News Site