Collector
Giriş Yap
প্রবাসীর ছেলেকে অপহরণ: ৫ মাস পর চক্রের ২ সদস্য গ্রেফতার | Collector
প্রবাসীর ছেলেকে অপহরণ: ৫ মাস পর চক্রের ২ সদস্য গ্রেফতার

প্রবাসীর ছেলেকে অপহরণ: ৫ মাস পর চক্রের ২ সদস্য গ্রেফতার

মালয়েশিয়া প্রবাসীর ছেলেকে অপহরণের পর ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।বুধবার (১০ জুন) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খানের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্চারামপুর উপজেলার শফিরকান্দি (পূর্বপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা শহিদুল্লার ছেলে আরিফুল (৩০) ও একই গ্রামের কামাল মিয়ার ছেলে সানি (২২)। সিআইডি জানায়, অপহৃত যুবকরে বাবা দীর্ঘ ৪-৫ বছর ধরে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করে পরিবারের ভরণপোষণের জন্য নিয়মিত অর্থ পাঠাতেন। চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি বিকেলে ওই যুবকের মোবাইল ফোনে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে কল করে জানানো হয়, তার বাবা মালয়েশিয়া থেকে ৫০ হাজার টাকা পাঠিয়েছেন। সেই টাকা নিতে দক্ষিণখান থানাধীন জয়নাল মার্কেট এলাকায় যেতে বলা হয়। তিনি ঠিকানা অনুযায়ী গেলে অপহরণকারীরা তাকে কৌশলে একটি প্রাইভেটকারে তুলে মিরপুর পল্লবীর একটি ভবনে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে আটকে রেখে মারধর করা হয় এবং তার কাছে থাকা নগদ ২০ হাজার ৫০০ টাকা ও মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট থেকে সাড়ে ৮ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়। পরবর্তীতে অপহরণকারীরা ভিকটিমের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং টাকা না দিলে তাকে হত্যার হুমকি দেয়। অপহরণের বিষয়টি পুলিশকে জানালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জোরদার অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয়। পুলিশি তৎপরতার বিষয়টি টের পেয়ে অপহরণকারীরা ১২ জানুয়ারি রাতে ভিকটিমকে ডিএমপির আগারগাঁও থানাধীন শেরে-ই বাংলা নগর এলাকায় একটি অজ্ঞাতনামা সিএনজিতে উঠিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে বাসায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে দক্ষিণখান (ডিএমপি) থানার মামলা করেন। মামলাটির তদন্তভার পাওয়ার পর সিআইডি গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে। সিআইডির ঢাকা মেট্রো-উত্তর বিভাগের একটি আভিযানিক দল গত মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর থানাধীন শফিরকান্দি গ্রামে অভিযান চালিয়ে আরিফুল ও সানিকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় নিজেদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। আরও পড়ুন: ভোজ্যতেল লুটে বাধা দেয়ায় মাগুরার সেই চালককে গলা কেটে হত্যা করা হয়: র‌্যাব তদন্তে জানা যায়, তারা অনেক বছর ধরে মালয়েশিয়ায় থাকতেন। এই ঘটনার কয়েকদিন আগে পরিকল্পনা করে বাংলাদেশে আসেন এবং এই অপরাধ সংঘটনের পর পর আবার মালয়েশিয়ায় পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সিআইডি আরও জানায়, এই চক্রটি গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ায় একই ধরনের অপহরণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মুক্তিপণ আদায়ের অপরাধ করে আসছিল। সানির বিরুদ্ধে বাঞ্চারামপুর থানায় একটি পুরনো মামলাও রয়েছে। চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের লক্ষ্যে এবং ঘটনার বিস্তারিত তথ্য উদঘাটনের স্বার্থে তাদেরকে তাদের আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।

Go to News Site