Somoy TV
লন্ডনে বসবাসরত মেয়ের ওপর তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের অমানুষিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের প্রতিকার এবং মেয়েকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চেয়েছেন এক মা।মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে সিলেট প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই আকুতি জানান নির্যাতিতার মা রেখা খাতুন চৌধুরী। তিনি সিলেট মহানগরীর শাহপরাণ থানার শাপলাবাগ এলাকার বাসিন্দা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রেখা খাতুন চৌধুরী জানান, তার মেয়ে আনিকা হক চৌধুরীর সঙ্গে আফজালুর রহমান জুলুর ছেলে রোম্মান আলমের বিয়ে হয় ২০২৫ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি। বিয়ের কিছুদিন পরই স্বামী রোম্মান আলম লন্ডন চলে যান। তিনি লন্ডন চলে যাওয়ার পর থেকে দেশে স্বামীর বাসায় থাকা অবস্থায় আনিকার ওপর তার ভাসুর রুহুল আমিন ও শাশুড়ি নাসিমা বেগম রিনু বিভিন্নভাবে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন। বিয়ের পর দীর্ঘ সময় পর্যন্ত শাশুড়ি তার মেয়েকে বাবার বাসায় আসতে দেননি। ওই সময় আনিকা তার মাকে আশ্বস্ত করেছিল যে, স্বামী তাকে লন্ডন নিয়ে গেলে সব ঠিক হয়ে যাবে। তিনি আরও জানান, ২০২৫ সালের ১১ অক্টোবর আনিকাকে লন্ডন নিয়ে যান তার স্বামী রোম্মান আলম। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর তার ওপর আরও অমানুষিক নির্যাতন শুরু হয়। রোম্মান আলম ও তার পরিবারের লোকজনের হুমকি, নির্যাতন ও আচরণে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, আনিকা বর্তমানে তাদের কাছে নিরাপদ নয় এবং যেকোনো সময় তারা যোগসাজশ করে লন্ডনে তাকে হত্যা করে লাশ গুম করতে পারে। মেয়ের ওপর অকথ্য নির্যাতনের খবর যাতে দেশে জানাতে না পারে, সেজন্য তার মোবাইল ফোনটিও কেড়ে নিয়েছেন স্বামী। আরও পড়ুন: ভারতে জেল খেটে দেশে ফিরলেন ৭ বাংলাদেশি রেখা খাতুন চৌধুরী অভিযোগ করেন, তার মেয়ের স্বামী কোনো কাজ না করে ঘরে বসে থাকেন এবং আনিকাকে দিয়ে চাকরি করিয়ে সেই অর্থ দিয়ে সংসার চালাতে বাধ্য করেন। প্রতি সপ্তাহের আয়ের পুরো টাকা কেড়ে নেন রোম্মান। আনিকা টাকা দিতে না চাইলে তার ওপর চালানো হয় তীব্র নির্যাতন। এ ব্যাপারে স্থানীয় শাহপরাণ থানা ও সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনারের কাছে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। নির্যাতিতার মা আরও অভিযোগ করেন, মেয়ের জামাই রোম্মান আলমের আপন চাচা বিএনপি নেতা সিদ্দিকুর রহমান পাপলু দলীয় প্রভাব খাটিয়ে বাংলাদেশে তার ভাইয়ের বউ (আনিকার শাশুড়ি) ও ভাতিজার (ভাসুর রুহুল আমিন) সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখছেন। তিনি লন্ডনে থাকা আনিকা এবং দেশে থাকা তার বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে গালিগালাজ ও অশালীন আচরণ করতে সহযোগিতা করে আসছেন। এমনকি তিনি পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে যোগসাজশ করে পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তে বাধার সৃষ্টি করছেন। সংবাদ সম্মেলনে রেখা খাতুন চৌধুরী বলেন, ‘প্রায় এক মাস আগে সিদ্দিকুর রহমান পাপলু আমাকে ফোন করে বলেন, আপনি যা বলে বেড়াচ্ছেন এবং থানায় যে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন, আমি খোঁজ নিয়ে জেনেছি তার কোনো সত্যতা নেই। এটা সম্পূর্ণ বানোয়াট, তাই আপনারা কোনো বিচার পাবেন না। আমি নাকি মিথ্যা প্রোপাগান্ডা চালিয়ে তাদের সম্মান নষ্ট করছি। অথচ আমি তাকে মেয়ের ওপর শারীরিক নির্যাতন, ভাইয়ের বউয়ের অকথ্য গালিগালাজ এবং তার দুই ভাতিজা রোম্মান ও রুহুলের আচরণের ভিডিও ফুটেজও দেখিয়েছিলাম।’ তিনি বলেন, ‘আমার মেয়ের ওপর নির্যাতনের বিষয়টি তার চাচা শ্বশুর সিদ্দিকুর রহমান পাপলুকে জানানো হলে তিনি এ ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো আমাকে গালিগালাজ করেন এবং নির্যাতনের বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।’ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর বিবেচনা করে এবং ভবিষ্যতে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধের স্বার্থে মেয়েকে দ্রুত উদ্ধার করে রোম্মান আলমের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে জোর দাবি জানান অসহায় এই মা।
Go to News Site