Collector
Giriş Yap
শি’র উত্তর কোরিয়া সফর: বন্ধুত্বের উচ্ছ্বাসের আড়ালে ‘বড় বার্তা’ | Collector
শি’র উত্তর কোরিয়া সফর: বন্ধুত্বের উচ্ছ্বাসের আড়ালে ‘বড় বার্তা’

শি’র উত্তর কোরিয়া সফর: বন্ধুত্বের উচ্ছ্বাসের আড়ালে ‘বড় বার্তা’

সাত বছর পর উত্তর কোরিয়া সফরে যান চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। বিশ্লেষকরা বলছেন, লাল গালিচা, সামরিক অভ্যর্থনা আর সমাজতান্ত্রিক বন্ধুত্বের উচ্ছ্বাসের আড়ালে ছিল আরও ‘বড় বার্তা’। উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের নতুন রূপরেখা তুলে ধরেছেন শি, যেখানে বাণিজ্য থেকে সামরিক সহযোগিতা সব ক্ষেত্রেই ঘনিষ্ঠতার ইঙ্গিত মিলেছে।বিশ্লেষকরা বলছেন, শি’র এই উত্তর কোরিয়া সফর শুধু দ্বিপাক্ষিক সফর নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং পূর্ব এশিয়ার শক্তির ভারসাম্যকে ঘিরে চীনের বৃহত্তর কৌশলের অংশ। প্রায় সাত বছর পর উত্তর কোরিয়া সফরে গিয়ে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠকে বাণিজ্য, কৃষি, অবকাঠামো, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি কৌশলগত সমন্বয়, সামরিক, কূটনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ জোরদারের প্রস্তাব দেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ফলে সম্পর্ককে শুধু রাজনৈতিক নয়, বহুমাত্রিক অংশীদারত্বে রূপ দেয়ার বার্তাই স্পষ্ট হয়েছে। তবে সফরের সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দের অনুপস্থিতি। ২০১৯ সালের সফরের সময় শি কোরীয় উপদ্বীপকে ‘পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত’ করার পক্ষে চীনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছিলেন। কিন্তু এবার প্রকাশিত বক্তব্যে সেই প্রসঙ্গ নেই। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কিম জং উনের জন্য একটি কূটনৈতিক সাফল্য হতে পারে। কারণ উত্তর কোরিয়া এরইমধ্যেই সংবিধানে নিজেদের পারমাণবিক নীতিকে অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে অস্ত্র কর্মসূচি সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে। আরও পড়ুন: উত্তর কোরিয়ায় চীনা প্রেসিডেন্টকে রাজকীয় অভ্যর্থনা এই সফর এমন এক সময়ে হলো, যখন চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কৌশলগত প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়েছে এবং উত্তর কোরিয়া রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার করেছে। ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কোকে সহায়তা দিতে সেনা ও অস্ত্র পাঠিয়েছে পিয়ংইয়ং, আর ২০২৪ সালে কিম জং উন ও ভ্লাদিমির পুতিন পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিও স্বাক্ষর করেন। এমন বাস্তবতায় শি’র সফরকে অনেকেই বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে পিয়ংইয়ংকে আবারও নিজেদের প্রভাব বলয়ের কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। একইসঙ্গে সফরটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। ডনাল্ড ট্রাম্প কিম জং উনের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহ প্রকাশ করলেও, চীন দেখাতে চায় উত্তর কোরিয়ার ওপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব এখনো বেইজিংয়েরই। বিশেষজ্ঞদের মতে, সামরিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে চীন ক্রমেই এমন একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো কল্পনা করছে, যা যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের জোটের পাল্টা ভারসাম্য তৈরি করতে পারে। একইসঙ্গে উত্তর কোরিয়া যেন এমন কোনো পদক্ষেপ না নেয় যা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে, সেটিও নিশ্চিত করতে চায় বেইজিং।

Go to News Site